রেকর্ড দফার ভোটে রেকর্ড বাহিনী! প্রথম দফার ১৫২ আসনে নিরাপত্তার চাদর; লেটেস্ট আপডেট এক নজরে

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় নজিরবিহীন নিরাপত্তার পথে হাঁটল নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। এই দফায় রাজ্যের ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট হতে চলেছে। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন রেকর্ড পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের জেলাগুলোতে রুট মার্চ শুরু করে দিয়েছেন জওয়ানেরা।

বাহিনীর বিন্যাস: কোথায় কত প্রহরা?

কমিশন সূত্রে খবর, প্রথম দফার ভোটের জন্য মোট ২৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। জেলাভিত্তিক মোতায়েনের ক্ষেত্রে গত কয়েক বছরের হিংসার ইতিহাস এবং স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জেলা / পুলিশ জেলা বাহিনীর পরিমাণ (কোম্পানি) গুরুত্বের কারণ
মুর্শিদাবাদ ৩১৬ (সর্বোচ্চ) রাজনৈতিক সংঘাত ও সীমান্তবর্তী এলাকা।
পূর্ব মেদিনীপুর ২৭৩ নন্দীগ্রামের মতো হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র।
আসানসোল-দুর্গাপুর ১২৫ শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা।
রায়গঞ্জ (উত্তর দিনাজপুর) ৭১ স্পর্শকাতর এলাকা।
ইসলামপুর (উত্তর দিনাজপুর) ৬১ উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট।
শিলিগুড়ি ৪৪ গুরুত্বপূর্ণ করিডোর।

রেকর্ড মোতায়েন কেন?

  • ১৫২টি আসন: প্রথম দফাতেই রাজ্যের অর্ধেকের বেশি (১৫২/২৯৪) আসনে ভোট হচ্ছে। এত বড় এলাকায় একদিনে ভোট করাতে বিপুল পরিমাণ জওয়ানের প্রয়োজন।

  • ২.৪ লক্ষ জওয়ান: সব মিলিয়ে প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (CAPF) জওয়ান মোতায়েন থাকছে, যা বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে রেকর্ড।

  • স্পর্শকাতর বুথ: প্রতিটি বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে কমিশন। কুইক রেসপন্স টিম (QRT) এবং আকাশপথে নজরদারির ব্যবস্থাও থাকছে।

বিরোধীদের দাবি বনাম শাসকদলের প্রতিক্রিয়া

বিজেপি এই বিপুল পরিমাণ বাহিনীকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, “মানুষ যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, তার জন্য এই ব্যবস্থা জরুরি।” অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, “অযথা বিপুল পরিমাণ বাহিনী এনে ভোটারদের মনে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চলছে। তবে বাংলার মানুষ উন্নয়নের পক্ষেই ভোট দেবেন।”