“এই দিদি” সম্বোধন করে বিপাকে অমিত শাহ! তিনবারের মুখ্যমন্ত্রীকে ‘অসম্মান’, রণং দেহি মেজাজে তৃণমূল

নির্বাচনের মুখে ফের একবার ভাষাগত মর্যাদাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সেই বহুল বিতর্কিত “ও দিদি ও দিদি” ডাকের পর এবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের “এই দিদি” সম্বোধন নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের তিনবারের নির্বাচিত মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে এভাবে সম্বোধন করা আদতে গোটা বাংলার নারীজাতির অপমান—এই অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে জ্বলে উঠলেন তৃণমূল নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
কী অভিযোগ তৃণমূলের?
তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসিয়াল হ্যান্ডেল থেকে একটি কড়া পোস্ট করে অমিত শাহকে তীব্র আক্রমণ জানানো হয়েছে। তাদের দাবি:
-
মর্যাদাহানি: ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে একজন সাংবিধানিক পদে থাকা মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে “এই দিদি”, “ওই দিদি” বলা অত্যন্ত কুরুচিকর।
-
মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন: তৃণমূলের অভিযোগ, এই ভাষা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর “পিতৃতান্ত্রিক ও নারীবিদ্বেষী” মানসিকতারই প্রতিফলন। এটি কোনও অনিচ্ছাকৃত ভুল নয়, বরং পরিকল্পিত আক্রমণ।
-
বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা: চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর দেখানো পথেই হাঁটছেন অমিত শাহ। তাঁদের এই অবজ্ঞা বাংলার মহিলারা মুখ বুজে সহ্য করবে না।
চন্দ্রিমার হুঙ্কার: “গণতান্ত্রিক পথে জবাব দেবে বাংলা”
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ আমাদের মাননীয়া নেত্রীকে ‘এই দিদি’ বলে ডেকেছেন। এটা কোনও ভদ্র বা গ্রহণযোগ্য ভাষা হতে পারে না। বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে মহিলাদের সম্মান দেওয়া শেখানো হয়, যা বিজেপি নেতারা এখনও শিখতে পারেননি।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ভোটের বাক্সে বাংলার মা-বোনেরা এই অপমানের যোগ্য জবাব দেবেন।
বিতর্কের আবহে খাড়গের মন্তব্য
এদিকে রাজনীতির ময়দানে কাদা ছোড়াছুড়ি যখন তুঙ্গে, তখন মল্লিকার্জুন খাড়গের একটি মন্তব্য ঘিরেও বিতর্ক দানা বেঁধেছে। মোদীকে নিয়ে তাঁর মন্তব্যের পর বিজেপিও পাল্টা ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছে। সব মিলিয়ে প্রথম দফার ভোটের আগে জাতীয় ও রাজ্য—উভয় স্তরেই রাজনৈতিক সৌজন্য কার্যত তলানিতে ঠেকেছে।