হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের দামামা! মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আসা বন্ধ হতেই ভারতের ‘মাস্টারস্ট্রোক’, রাশিয়ার ঢালই কি বাঁচাবে দেশ?

বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের বাজারে যুদ্ধের কালো মেঘ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী বর্তমানে কার্যত অবরুদ্ধ। যে পথ দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়, সেই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতসহ একাধিক দেশের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল। কিন্তু এই চরম সংকটেও পিছু হঠেনি ভারত। নয়াদিল্লির সময়োচিত এবং বলিষ্ঠ কূটনীতিতে নিশ্চিত হয়েছে দেশের পেট্রোল-ডিজেলের ভাণ্ডার।
মধ্যপ্রাচ্যে ধস: আক্রান্ত ভারতীয় জাহাজ
মার্চ মাসের পরিসংখ্যান বলছে, ফেব্রুয়ারির তুলনায় ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি প্রায় ১৩ শতাংশ কমেছে। ইরান ও আমেরিকার ছায়াযুদ্ধে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পড়েছে। গত শনিবারও ওই পথে দুটি ভারতীয় জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারতের তেল আমদানি অভাবনীয়ভাবে ৬১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ভারতের মোট আমদানিতে মধ্যপ্রাচ্যের অংশ এখন মাত্র ২৬.৩ শতাংশ—যা ইতিহাসের সর্বনিম্ন।
বিপদে মোক্ষম চাল: রেকর্ড পরিমাণ রুশ তেল ক্রয়
মধ্যপ্রাচ্যের শূন্যস্থান পূরণে ভারত দ্রুত তার কৌশল পরিবর্তন করে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকেছে। ভাসমান রুশ তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, ভারতের বিশেষ অনুরোধে হোয়াইট হাউস থেকে মিলেছে বিশেষ ছাড়।
রেকর্ড আমদানি: মার্চ মাসে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি দ্বিগুণ হয়ে দৈনিক ২২.৫ লক্ষ ব্যারেলে পৌঁছেছে।
ভাণ্ডারের অর্ধেকই রুশ: বর্তমানে ভারতের মোট চাহিদার অর্ধেক তেল একাই সরবরাহ করছে রাশিয়া।
ট্রাম্পের ছাড়: ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি সমুদ্রপথে রুশ তেল কেনার সময়সীমা আরও এক মাস বাড়িয়ে দিয়েছে, যা ভারতের জন্য বড় স্বস্তি।
ওপেক (OPEC)-এর আধিপত্যে ফাটল
এই ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহকারীদের তালিকায় বড় ওলটপালট ঘটে গেছে। একসময় ওপেক ভুক্ত দেশগুলোর (সৌদি, ইরাক, কুয়েত) ওপর ভারত নির্ভরশীল থাকলেও, এখন তাদের অংশ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৯ শতাংশে।
রাশিয়া: ভারতের ১ নম্বর সরবরাহকারী।
সৌদি আরব: দ্বিতীয় স্থান (ইরাককে টপকে)।
অ্যাঙ্গোলা: তৃতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী হিসেবে আফ্রিকার এই দেশটি ভারতের নতুন ভরসা হয়ে উঠেছে।
ভারতের জন্য সুখবর: ফুরাবে না জ্বালানি
বিশ্ববাজারে এত অস্থিরতা সত্ত্বেও ভারত সরকার ও তেল কোম্পানিগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। নয়াদিল্লির স্পষ্ট বার্তা—দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি হবে না। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি সহজতর করার স্বার্থে রাশিয়া থেকে আমদানি কিছুটা কমালেও (৩৬% থেকে ৩৩%), প্রয়োজনের সময় পুতিনের দেশকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে ভারত। এই সুনিপুণ ভারসাম্যের ফলেই আন্তর্জাতিক বাজারে আগুনের আঁচ ভারতের পেট্রোল পাম্পগুলোতে পৌঁছাতে পারেনি।