রেজাল্টই সব নয়! ফেল করা ছাত্রের ঝুলিতে এখন মাইক্রোসফটের চাকরি, কার্তিকের সাকসেস স্টোরি চোখে জল আনবে

আজকের প্রতিযোগিতার যুগে অনেকের কাছেই অ্যাকাডেমিক রেজাল্ট বা সিজিপিএ (CGPA)-ই শেষ কথা। কিন্তু পুঁথিগত বিদ্যা বা পরীক্ষায় পাশ-ফেল যে জীবনের সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি নয়, তা হাতেনাতে প্রমাণ করে দিলেন ভারতীয় টেকি কার্তিক মোদী। কলেজ জীবনের ব্যর্থতাকে হেলায় হারিয়ে তিনি আজ বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর চোখের মণি।
ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে নিজের লড়াইয়ের কথা শেয়ার করেছেন কার্তিক। তিনি জানান, কলেজ জীবনে তিনি বড়সড় ধাক্কা খেয়েছিলেন। বিশেষ করে টেক ইন্ডাস্ট্রির সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ডেটা স্ট্রাকচার ও অ্যালগরিদম (DSA)-এ ব্যাকলগ থাকায় তাঁর আত্মবিশ্বাস তলানিতে ঠেকেছিল। সহপাঠীদের প্রস্তুতির ভিড়ে নিজেকে ব্রাত্য মনে করতেন তিনি। কিন্তু হার মানার পাত্র ছিলেন না কার্তিক।
কৌশল বদলই আনল সাফল্য
কার্তিক বুঝতে পেরেছিলেন, দ্রুত দৌড়ানোর চেয়ে গভীরে যাওয়া জরুরি। হীনমন্যতায় না ভুগে তিনি নিজের রণকৌশল বদলে ফেলেন:
মৌলিক শিক্ষায় জোর: প্রতিটি বিষয় ভাসা-ভাসা ভাবে না পড়ে গোড়া থেকে শেখা শুরু করেন।
ধারাবাহিক অনুশীলন: প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক কোডিং সমস্যা সমাধানের শপথ নেন।
দুর্বলতাই শক্তি: নিজের কোডিং গতি ও কমিউনিকেশন স্কিল বাড়ানোর জন্য প্রতিটি ব্যর্থতাকে ‘ফিডব্যাক’ হিসেবে গ্রহণ করেন।
সাফল্যের আকাশছোঁয়া দৌড়
২০২১ সালে এনআইটি (NIT) কুরুক্ষেত্র থেকে বি.টেক সম্পন্ন করার পরই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। তাঁর দক্ষতা দেখে চমকে যায় বড় বড় সংস্থাগুলো।
কর্মজীবনের শুরুতে সুযোগ পান Uber-এ।
এরপরের গন্তব্য ছিল টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফট।
বর্তমানে তিনি অ্যামাজনে (Amazon) এসডিই-২ (SDE-2) পদে কর্মরত।
এখানেই শেষ নয়, কার্তিকের ঝুলিতে রয়েছে গুগল (Google) এবং Atlassian-এর মতো বিশ্বসেরা সংস্থার চাকরির অফারও।
তরুণ প্রজন্মের জন্য বার্তা
কার্তিকের এই সফর আজ সেইসব শিক্ষার্থীদের কাছে অক্সিজেনের মতো, যারা কম নম্বর বা ব্যাকলগের কারণে হতাশায় ভুগছেন। তাঁর বার্তা খুব স্পষ্ট— “ব্যর্থতা মানেই শেষ নয়, বরং নতুন করে শুরু করার সুযোগ।” সঠিক পরিকল্পনা আর অদম্য জেদ থাকলে যে কোনো সাধারণ ছাত্রও বিশ্বজয় করতে পারে, কার্তিক মোদী আজ তারই জীবন্ত উদাহরণ।