ভোটের কাজে ‘বন্দি’ ১৬০০ বাস! প্রথম দফার আগেই কলকাতায় বাসের হাহাকার, নাজেহাল নিত্যযাত্রীরা

বৃহস্পতিবার ১৫২টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ। আর সেই ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে (CAPF) বিভিন্ন বুথে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পড়েছে গণপরিবহণের ওপর। সোমবার থেকেই কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের অধিকাংশ সরকারি ও বেসরকারি বাস পুলিশ লাইনে বা ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারে রিপোর্ট করতে শুরু করেছে।
পরিসংখ্যান কী বলছে?
বাস ইউনিয়নগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:
কলকাতায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ হাজার বেসরকারি বাস চলাচল করে।
প্রথম দফার ভোটের জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় ১৬০০ বাস প্রশাসন অধিগ্রহণ করেছে।
বর্তমানে শহরের রাস্তায় বাসের সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গিয়েছে।
ভোগান্তির চিত্র:
মঙ্গলবার সকাল থেকেই শিয়ালদহ, হাওড়া, ধর্মতলা ও উল্টোডাঙার মতো জনবহুল মোড়গুলিতে বাসের অপেক্ষায় দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে। যে বাসগুলি চলছে, সেগুলি এতটাই ভিড় যে সাধারণ মানুষের পক্ষে ওঠা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক যাত্রীই অটো বা অ্যাপ ক্যাবের সাহায্য নেওয়ার চেষ্টা করলেও, সেখানেও অস্বাভাবিক ভাড়ার অভিযোগ উঠছে।
বাস মালিকদের উদ্বেগ:
সিটি সাবার্বান বাস সার্ভিসের সাধারণ সম্পাদক টিটু সাহা জানিয়েছেন, কেবল বাসের সংখ্যা কমা নয়, যে বাসগুলি নেওয়া হয়েছে সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও তাঁরা চিন্তিত।
অতিরিক্ত পথ: যেখানে বাসের রুট সাধারণত ১৪০-২০০ কিমি, ভোটের কাজে সেগুলি দিনে ৫০০-৬০০ কিমি পর্যন্ত চালানো হতে পারে।
শ্রমিক অসন্তোষ: একটানা ডিউটি করলেও চালক ও কন্ডাক্টররা পর্যাপ্ত সুবিধা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ।
ইউনিয়নগুলির দাবি:
পরিবহণ দপ্তরের প্রধান সচিবকে চিঠি দিয়ে ইউনিয়নগুলি দাবি জানিয়েছে যে, সব বাস না তুলে অন্তত ৪০ শতাংশ বাস যেন রুটেই রাখা হয়। যাতে সাধারণ মানুষের জরুরি যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে যায়। এছাড়াও আগামী ২৫ ও ২৭ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের জন্য আরও কিছু বাস নেওয়া হবে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।
অন্দরমহলের খবর: নির্বাচনী ডিউটির জন্য অনেক ক্ষেত্রে অ্যাপ ক্যাব ও ১৬ আসনের শাটলগুলোকেও ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে কমিশন। ফলে আগামী ৪ মে ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কলকাতার যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার আশা কম।