“কারচুপি করলেই কড়া দাওয়াই?”-ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে CEC-র হাড়হিম করা বার্তা!

বঙ্গভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আগে হাতে সময় মাত্র ৪৮ ঘণ্টা। ঠিক তার আগেই বাংলার আইনশৃঙ্খলা এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে নজিরবিহীন কড়া বার্তা দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার। সোমবার নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে এক ম্যারাথন বৈঠকের পর তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বাংলায় নির্বাচন হবে পুরোপুরি ভয়মুক্ত এবং হিংসামুক্ত। কোনোভাবেই পেশিশক্তি বা টাকার গরম সহ্য করবে না কমিশন।
কমিশনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি
নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করাই কমিশনের একমাত্র লক্ষ্য। তাঁর কড়া হুঁশিয়ারি:
-
হিংসা ও ভীতিপ্রদর্শন: ভোটারদের ভয় দেখালে বা প্রলোভন দিলে সরাসরি ব্যবস্থা।
-
বুথ দখল: ভোট প্রক্রিয়াকে কলুষিত করার চেষ্টা করলে রেহাই নেই।
-
প্রশাসনের ভূমিকা: রাজ্য সরকার বা স্থানীয় প্রশাসনের কোনও কর্মী ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কমিশন বনাম তৃণমূল: সংঘাত তুঙ্গে
এদিকে ২০২৬-এর এই নির্বাচনের আবহে নির্বাচন কমিশন ও শাসকদলের সম্পর্ক এখন ‘আদায়-কাঁচকলায়’। তৃণমূলের অভিযোগ, কমিশন বিজেপির দলদাসের মতো কাজ করছে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যদিও এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে কমিশন।
ভোটার তালিকা নিয়ে সংঘাত
সংঘাতের আরেকটি বড় কারণ হলো ভোটার তালিকার সংশোধন। তৃণমূলের দাবি, পরিকল্পনা করে তাঁদের সমর্থকদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। পাল্টা জবাবে বিজেপি ও কমিশন জানিয়েছে, নিয়মের বাইরে কিছুই করা হয়নি। উল্লেখ্য, এবার বাংলায় ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা চলছে।
এক নজরে ভোটের নির্ঘণ্ট:
বাংলার গণতন্ত্রের এই মহোৎসবে কারা শেষ হাসি হাসবে, তা সময়ই বলবে। তবে কমিশনের কড়া নজরদারিতে এবার ভোটপর্ব কতটা শান্তিতে মেটে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।
-
প্রথম দফার ভোট: ২৩ এপ্রিল
-
দ্বিতীয় দফার ভোট: ২৯ এপ্রিল
-
ভোট গণনা: ৪ মে