‘ওহ লাভলি’ থেকে ঝালমুড়ি! তৃণমূলের ‘কালারফুল’ নেতার নতুন মিশনে তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি

মাছের পর এবার রাজনীতির পাতে ‘ঝালমুড়ি’! মোদীকে বিঁধতে মদন মিত্রের নতুন চাল? ২. রাস্তার ধারে ঝালমুড়ি মাখছেন মদন! মমতার প্রিয় জলখাবার দিয়েই কি কুপোকাত হবে বিজেপি? ৩. ‘ওহ লাভলি’ থেকে ঝালমুড়ি! তৃণমূলের ‘কালারফুল’ নেতার নতুন মিশনে তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি

রাজনীতির ময়দানে এবার টক-ঝাল লড়াই! ঝালমুড়ি হাতে মোদীকে নিশানা মদন মিত্রের

কলকাতা: মাছের ঝোল আর ভাত নিয়ে তরজা তো অনেক হলো, এবার বঙ্গ রাজনীতির রণক্ষেত্রে প্রবেশ করল বাঙালির প্রিয় ‘ঝালমুড়ি’। সাধারণ মানুষের অতি পরিচিত এই মুখরোচক খাবারই এখন তৃণমূল বনাম বিজেপি সংঘাতের নতুন অস্ত্র। আর এই ‘ঝালমুড়ি’ পর্বের প্রধান কারিগর হিসেবে মাঠে নেমেছেন কামারহাটির বিধায়ক তথা তৃণমূলের ‘কালারফুল’ নেতা মদন মিত্র।

জনসাধারণের মাঝে জননেতা: বিকেলে হঠাতই রাস্তার ধারের এক ঝালমুড়ির দোকানে পৌঁছে যান মদন মিত্র। সেখানে গিয়ে নিজেই ঝালমুড়ি মাখতে শুরু করেন তিনি। তাঁর পরনে চিরাচরিত স্টাইলিশ পাঞ্জাবি ও চোখে রঙিন চশমা। ঝালমুড়ি মাখতে মাখতেই পথচলতি মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ সারেন তিনি। তবে শুধু খাওয়াদাওয়া নয়, এই ঝালমুড়ি মাখার আড়ালে ছিল তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক খোঁচা।

প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা: ঝালমুড়ির ঠোঙা হাতে নিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করেন মদন মিত্র। তিনি বলেন:

“বাঙালির আবেগকে বুঝতে গেলে ঝালমুড়ির স্বাদ বুঝতে হবে। দিল্লির শাসকরা শুধু বড় বড় কথা বলেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের রুটিরুজি বা তাঁদের পছন্দের খবর রাখেন না। মমতাদির অনুপ্রেরণায় আমরা মানুষের সাথে মিশে থাকি, আর বিজেপি থাকে বিভাজনের রাজনীতি নিয়ে।”

কেন আলোচনায় ঝালমুড়ি? বাংলার রাজনীতিতে খাবার দাবার বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। কিছুদিন আগেই মাছ খাওয়া নিয়ে শুরু হয়েছিল বিতর্ক। এবার ঝালমুড়িকে সামনে এনে মদন মিত্র বোঝাতে চাইলেন, তৃণমূল কংগ্রেস মাটির কাছাকাছি থাকা দল। অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, আসল ইস্যু থেকে নজর ঘোরাতেই এই ধরণের ‘নাটক’ করছেন তৃণমূল বিধায়ক।

DailyHunt বিশেষ বিশ্লেষণ: নির্বাচনী আবহে বা রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝে মদন মিত্রের এই ‘ঝালমুড়ি ডিপ্লোমেসি’ যে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়বে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একদিকে জন সংযোগ, অন্যদিকে বিরোধীদের প্রতি শ্লেষ—সব মিলিয়ে বঙ্গ রাজনীতিতে এখন টক-ঝাল-মিষ্টি স্বাদ পুরোদমে বর্তমান।