ঘরকুনো বৈঠকে মাইক কেন? ভবানীপুরে পুলিশ ও কর্মীদের ওপর ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী, ভোটের আগে তপ্ত কেন্দ্র

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পর এই প্রথম নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরে কর্মিসভায় যোগ দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সভার শুরুতেই মেজাজ হারালেন তৃণমূল নেত্রী। একটি ‘ঘরোয়া’ বৈঠকে কেন বড় সাউন্ড বক্স এবং মাইক লাগানো হয়েছে, তা নিয়ে রীতিমতো উষ্মা প্রকাশ করেন তিনি। পুলিশের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বলেন, “এটা ঘরোয়া বৈঠক। এখানে এত মাইকের কী দরকার? আমি কি এখানে গান গাইতে এসেছি? না কি ভাষণ দিতে এসেছি?”
নাম না নিয়ে শুভেন্দুকে বিঁধলেন মমতা এবারের নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতার বিরুদ্ধে বিজেপির বাজি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিনের সভায় একবারের জন্যও শুভেন্দুর নাম মুখে আনেননি মমতা। তবে তাঁর প্রতিটি আক্রমণই ছিল তীক্ষ্ণ। মমতা বলেন, “এখান থেকে যাঁরা লড়াই করছেন বা করার স্বপ্ন দেখছেন, তাঁরা জেনে রাখুন ভবানীপুর বাংলার মেজাজ বোঝে। বহিরাগতদের কথায় বা দিল্লির ইশারায় এখানে ভোট হয় না।” রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দুর নাম না নিয়ে তাঁকে গুরুত্বহীন প্রমাণ করাই ছিল মমতার কৌশলী চাল।
মোদীর প্রতি কড়া নিশানায় মমতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঝাড়গ্রামের ‘ঝালমুড়ি শো’-কে এদিনও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শুধু ছবি তুলতে ভালোবাসেন। সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান না করে তিনি ক্যামেরা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দিল্লিতে বসে বাংলার টাকা আটকে রাখা হয়েছে, আর এখানে এসে ঝালমুড়ি খেয়ে ভালোবাসা দেখাচ্ছেন!” মোদী সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য ভবানীপুরের ভোটারদের আহ্বান জানান তিনি।
ভবানীপুর: মান-সম্মানের লড়াই ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে হারলেও ভবানীপুর উপনির্বাচনে রেকর্ড মার্জিনে জিতেছিলেন মমতা। এবার সরাসরি শুভেন্দু অধিকারী তাঁর প্রতিপক্ষ হওয়ায় ভবানীপুর এখন সারা ভারতের কেন্দ্রবিন্দু। মমতা এদিন স্পষ্ট করে দেন যে, এবারের ভোট শুধুমাত্র ক্ষমতায় আসার জন্য নয়, বরং বাংলার সংস্কৃতি ও পরিচিতি রক্ষার লড়াই।
সতর্ক বার্তা দলীয় কর্মীদের এদিন দলীয় কর্মীদের অতি-উৎসাহ না দেখানোর পরামর্শ দেন মমতা। তিনি বলেন, “মানুষের দুয়ারে যান, পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে কাজ করুন। মাইক বাজিয়ে হইচই করে ভোট হয় না। ভবানীপুরের প্রতিটি ওয়ার্ডে আমাদের উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিন।”