বাড়িতে অতিরিক্ত মদ রাখলেও বিপদ! কড়া নজরদারির নির্দেশ কমিশনের, পশ্চিমবঙ্গ সহ ৫ রাজ্যে জারি নিষেধাজ্ঞা

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে জারি হয়েছে আদর্শ আচরণবিধি। এবার নির্বাচনকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ভোটগ্রহণের আগে এবং গণনা চলাকালীন পশ্চিমবঙ্গ সহ ভোটমুখী ৫টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ‘ড্রাই ডে’ (Dry Day) বা মদ বিক্রির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

কবে কবে বন্ধ থাকবে মদের দোকান? কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় মদের দোকান, বার এবং ক্লাবগুলিতে মদ বিক্রি বা পরিবেশন করা নিষিদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে দুই দফার ভোটের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী দিনগুলি হলো:

  • প্রথম দফা (২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার): ২১ এপ্রিল বিকেল থেকে ২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত।

  • দ্বিতীয় দফা (২৯ এপ্রিল, বুধবার): ২৭ এপ্রিল বিকেল থেকে ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত।

  • ফলাফল ঘোষণা (৪ মে, সোমবার): ভোট গণনার দিন অর্থাৎ ৪ মে গোটা রাজ্যে পূর্ণ দিবস ‘ড্রাই ডে’ পালিত হবে।

বাংলা ছাড়াও যে সব রাজ্যে নিষেধাজ্ঞা: কমিশন জানিয়েছে, এই নিয়ম শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই সীমাবদ্ধ নয়। একই সঙ্গে নির্বাচন চলাকালীন অসম, কেরল, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরিতেও নির্দিষ্ট দিনগুলিতে মদ বিক্রি বন্ধ থাকবে। এমনকি ভোট রয়েছে এমন নির্বাচনী এলাকার পার্শ্ববর্তী এলাকাতেও কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাড়িতে মদ রাখলেও নজরদারি! শুধুমাত্র দোকানেই নয়, ব্যক্তিগতভাবে অতিরিক্ত মদ মজুত রাখার ক্ষেত্রেও আবগারি দফতর ও পুলিশকে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লাইসেন্সবিহীন জায়গায় বেআইনিভাবে মদ রাখা বা নির্বাচনের আগে ভোটারদের প্রভাবিত করতে মদ বিলি করা রুখতে কড়া ব্যবস্থা নেবে কমিশন।

কড়া শাস্তির বিধান: নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, এই নির্দেশ অমান্য করলে বা লুকিয়ে মদ বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল সহ মোটা অঙ্কের জরিমানা এবং জেল হতে পারে। মদের দোকান ছাড়াও হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ক্লাবগুলিকেও এই সময়সীমার মধ্যে কোনো প্রকার মাদকদ্রব্য পরিবেশন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।