১১০০ কোটির লেনদেন ও পুলিশের বদলি রাজ! ইডির জালে ধরা পড়া জয় কামদারকে নিয়ে তোলপাড় রাজ্য

সোনা পাপ্পু-প্রোমোটার যোগসাজশ মামলায় ধৃত জয় কামদারকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর হাতে। ইডি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, জয় কামদার শুধুমাত্র ১১০০ কোটি টাকার বেআইনি লেনদেনেই জড়িত ছিলেন না, বরং পুলিশ প্রশাসনের অন্দরেও ছিল তাঁর অবাধ যাতায়াত। এমনকি, প্রভাবশালী মহলে যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে থানার ওসি (OC) বদলির মতো বিষয়েও তিনি নাক গলাতেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশের বদলিতে ‘লম্বা হাত’! তদন্তকারী সংস্থা ইডির দাবি, জয় কামদারের মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল নথি পরীক্ষা করে বেশ কিছু হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট পাওয়া গিয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রভাবশালীদের নাম ভাঙিয়ে নির্দিষ্ট কিছু পুলিশ অফিসারকে পছন্দমতো জায়গায় বদলি করার তদ্বির করতেন তিনি। বিশেষ করে যে সব এলাকায় সোনা পাপ্পু বা তাঁর সহযোগীদের নির্মাণ ব্যবসা বা প্রোমোটিং চলত, সেখানে নিজেদের ‘ঘনিষ্ঠ’ আধিকারিকদের বসাতে মরিয়া থাকতেন জয়।
সোনা পাপ্পু-কামদার সমীকরণ ইডির তদন্তে উঠে এসেছে, সোনা পাপ্পু এবং কামদারের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর। প্রমোটারদের থেকে তোলাবাজির টাকা সংগ্রহ করা এবং সেই কালো টাকা বিভিন্ন ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে সাদা করার মূল কারিগর ছিলেন এই জয় কামদার। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রায় ১১০০ কোটি টাকারও বেশি বেআইনি আর্থিক লেনদেনের হিসেব পাওয়া গিয়েছে তাঁর মাধ্যমে।
তদন্তকারীদের নজরে ডিসিপি ও পুলিশ কর্তারা জয় কামদারের ডায়েরি ও ফোন থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের ওপর নজর রাখছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। সম্প্রতি সোনা পাপ্পু মামলায় ডিসিপি (DCP) শান্তনু সিংহ বিশ্বাসকেও তলব করেছে ইডি। তদন্তকারীদের সন্দেহ, পুলিশ প্রশাসনের একাংশের মদত ছাড়া একজন ব্যবসায়ীর পক্ষে থানার বদলি নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব।
পরবর্তী পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই জয় কামদারকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা শুরু করেছে ইডি। এই চক্রের মূল শিকড় কতদূর বিস্তৃত এবং এই ‘বদলি বাণিজ্যে’ আর কোন কোন বড় নাম জড়িয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। আগামী কয়েক দিনে এই মামলায় আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে বলে ইডি সূত্রে খবর।