“১০ টাকার ঝালমুড়িতেই আটকে গেল হেলিকপ্টার!”-মোদী বনাম সোরেন দ্বৈরথে তোলপাড় বাংলা

ছুটির মেজাজে রবিবাসরীয় নির্বাচনী প্রচারে ঝাড়গ্রামে এসে এক অন্য মেজাজে ধরা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাস্তার ধারের দোকান থেকে ঝালমুড়ি খেলেন, পকেট থেকে ১০ টাকা বের করে দামও মেটালেন। নিমেষেই সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই ‘স্ন্যাকস ব্রেক’ ঘিরেই এবার শুরু হলো চরম রাজনৈতিক বিতর্ক। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়ার চক্করেই ঝাড়গ্রামে নামতে দেওয়া হয়নি ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের হেলিকপ্টার।

চপার বিভ্রাট: ঠিক কী অভিযোগ তৃণমূলের?

তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এবং তাঁর স্ত্রী তথা বিধায়িকা কল্পনা সোরেনের ঝাড়গ্রামে অবতরণের কথা ছিল। সেখান থেকে তাঁদের দাঁতন ও কেশিয়ারিতে জনসভা করার কথা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ ঝালমুড়ির দোকানে ঢুকে পড়ে সময় বাড়ানোয় নিরাপত্তার খাতিরে সোরেন দম্পতির হেলিকপ্টারকে নামার অনুমতি দেওয়া হয়নি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করিয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁদের রাঁচিতে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয় বলে দাবি ঘাসফুল শিবিরের।

“আদিবাসী-বিরোধী মানসিকতা”, চড়া সুরে আক্রমণ

তৃণমূল কংগ্রেস তাদের অফিসিয়াল এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে মোদীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে লিখেছে:

“প্রধান সেবক ঝালমুড়ি খাওয়ার জন্য সময়সীমা বাড়াতেই দুই নির্বাচিত নেতার গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হলো। প্রধানমন্ত্রীর ফটো তোলার সুযোগ কি সাংবিধানিক অবস্থানের চেয়েও বড়?”

তৃণমূলের দাবি, এটি নরেন্দ্র মোদীর ‘আদিবাসী-বিরোধী’ মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ। তাদের অভিযোগ, স্রেফ ফটো শ্যুটের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা হয় ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীকে, যা অত্যন্ত অপমানজনক।

ঝালমুড়ি বনাম জনসভা

রবিবার ঝাড়গ্রামের রাস্তায় প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়ার দৃশ্যটি যখন বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু, ঠিক তখনই ঝাড়খণ্ডের জেএমএম (JMM) ও বাংলার শাসক দল তৃণমূল একে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, পরিকল্পিতভাবে বিরোধী দলের প্রচার ভেস্তে দিতেই প্রধানমন্ত্রীর এই বাড়তি সময়ক্ষেপণ।

নির্বাচনী মরশুমে ১০ টাকার এক ঠোঙা ঝালমুড়ি যে শেষ পর্যন্ত দিল্লি বনাম রাঁচি দ্বন্দ্বে রূপ নেবে, তা হয়তো কেউই ভাবেনি। এই হেলিকপ্টার বিতর্ক আগামী কয়েকদিন রাজ্যের রাজনৈতিক পারদকে যে আরও চড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।