বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল ১০ কিমি এলাকা! তামিলনাড়ুর বাজি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে শোকপ্রকাশ মোদী-স্ট্যালিনের

আজ বিকেলে তামিলনাড়ুর বিরুধুনগর জেলার কাত্তানারপট্টির একটি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল গোটা এলাকা। জেলা প্রশাসন সূত্রে পাওয়া শেষ খবর অনুযায়ী, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনে মৃতদেহগুলি এতটাই দগ্ধ হয়েছে যে অনেককেই চেনা দায় হয়ে পড়েছে।

কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা? স্থানীয় প্রশাসন ও দমকল বাহিনীর প্রাথমিক অনুমান:

  • রাসায়নিক ঘর্ষণ: বাজির মশলা মেশানোর সময় অতিরিক্ত ঘর্ষণের ফলে এই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। প্রচণ্ড গরমে রাসায়নিকের বিক্রিয়াকেও দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • বিস্ফোরণের তীব্রতা: বিস্ফোরণ এতটাই জোরালো ছিল যে কারখানার চারটি ঘর সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে ধুলোয় মিশে গেছে। কারখানার মালিক মুথুমাণিক্যম বলে জানা গেছে।

  • বিরামহীন কাজ: যদিও আজ রবিবার ছুটির দিন ছিল, তবুও অভিযোগ উঠছে কারখানায় কাজ চলছিল। ঘটনার সময় প্রায় ৩০ জন শ্রমিক ভেতরে ছিলেন।

উদ্ধারকাজ ও প্রশাসনের ভূমিকা: শিবকাশি, সাত্তুর এবং বিরুধুনগর থেকে দমকলের বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিন এই ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। তিনি দুই প্রবীণ মন্ত্রী কেকেএসএসআর রামচন্দ্রন এবং থঙ্গম থেন্নারাসুকে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ তদারকি করার নির্দেশ দিয়েছেন।

রাজনীতির প্রতিক্রিয়া: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে তামিলনাড়ুর বাজি কারখানাগুলিতে কেন বারবার এই ধরণের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বিরোধীরা।

উপসংহার: প্রতি বছরই শিবকাশি বা বিরুধুনগর অঞ্চলে বাজি কারখানায় দুর্ঘটনার খবর সামনে আসে। কিন্তু ১৬ জনের এই মৃত্যু মিছিল ফের একবার শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং বাজি শিল্পের কড়াকড়ি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।