নির্বাচনের মুখে ‘ঘোস্ট ভোটার’ আতঙ্ক! জামালপুরে মৃত মানুষের পরিবারে অচেনা যুবকের নাম, নেপথ্যে কি বড় ষড়যন্ত্র?

২০২৬-এর মেগা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। আর ঠিক এই সময়েই ভোটার তালিকায় চরম গাফিলতি বা পরিকল্পিত কারচুপির অভিযোগ উঠল পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর বিধানসভা কেন্দ্রে। মৃত এক ব্যক্তির পরিবারে সম্পূর্ণ এক অপরিচিত যুবকের নাম ‘ছেলে’ হিসেবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

ঘটনার বিবরণ: স্থানীয় সূত্রের খবর, জামালপুরের একটি পরিবারের গৃহকর্তার মৃত্যুর পর সম্প্রতি যখন নতুন ভোটার তালিকা বা ‘ভোটার স্লিপ’ বিলি করা হয়, তখন দেখা যায় ওই পরিবারের সদস্যদের নামের তালিকায় এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের নাম জ্বলজ্বল করছে। মৃত ব্যক্তির পরিবারের দাবি:

  • অচেনা নাম: তালিকায় যাঁর নাম রয়েছে, সেই ব্যক্তিকে পরিবারের কেউ চেনেন না।

  • সম্পর্ক জাল: ভোটার তালিকায় ওই যুবককে মৃত ব্যক্তির ‘ছেলে’ হিসেবে দেখানো হয়েছে, অথচ বাস্তবে ওই পরিবারের কোনো সন্তানই নেই।

  • বিএলও-র ভূমিকা: কীভাবে সরজমিনে তদন্ত না করে একজন বহিরাগত ব্যক্তির নাম একটি নির্দিষ্ট ঠিকানায় জুড়ে দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গ্রামবাসীরা।

কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: ২০২৬ নির্বাচনে ‘সুষ্ঠু ও অবাধ’ ভোট করানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু জামালপুরের এই ঘটনা প্রমাণ করছে যে: ১. যাচাইকরণে ত্রুটি: বুথ লেভেল অফিসার (BLO) এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের স্তরে বড়সড় ফাঁক রয়ে গেছে। ২. ভুয়ো ভোটারের আশঙ্কা: বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচনের দিন ছাপ্পা ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে বা বুথের জনবিন্যাস বদলাতে পরিকল্পিতভাবে এই ‘ভুয়ো ভোটার’ বা ‘ঘোস্ট ভোটার’ ঢোকানো হচ্ছে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর: এই ঘটনা সামনে আসতেই আসরে নেমেছে বিজেপি। বিরোধী শিবিরের দাবি, শাসক দল প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় কারচুপি করছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের দাবি এটি একটি যান্ত্রিক বা মুদ্রণজনিত ত্রুটি হতে পারে, একে রাজনৈতিক রঙ দেওয়া উচিত নয়।

উপসংহার: জামালপুরের বিডিও (BDO) জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে। তবে প্রথম দফার ভোটের আগে এই ধরণের ভুল যদি ব্যাপক স্তরে হয়ে থাকে, তবে ২০২৬-এর লড়াইয়ে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে।