“প্রশাসন নয়, পিসি-ভাইপোর ক্যাডার রাজ চলছে!” রাজীব কুমার বনাম শুভেন্দু লড়াইয়ে উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল যখন চূড়ান্ত হচ্ছে, ঠিক তখনই রাজ্যের প্রাক্তন ডিজিপি তথা বর্তমান পুলিশ মহাকর্তা রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর দাবি, পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে বসে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন রাজীব কুমার।
শুভেন্দুর অভিযোগের তির: এদিন একটি সাংবাদিক সম্মেলনে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন:
-
গোপন বৈঠক: পুলিশ সদর দপ্তরে বসে শাসক দলের নেতাদের সঙ্গে রাজীব কুমার নিয়মিত বৈঠক করছেন। নির্বাচনের আগে কোন জেলায় কোন পুলিশ অফিসারকে বসানো হবে এবং বিরোধী নেতাদের কীভাবে বিপাকে ফেলা হবে, তার ‘ব্লু-প্রিন্ট’ তৈরি হচ্ছে ওখানেই।
-
বিজেপি কর্মীদের টার্গেট: শুভেন্দুর অভিযোগ, রাজীব কুমারের নির্দেশে উত্তর থেকে দক্ষিণ— বিজেপি কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ছক কষা হয়েছে যাতে ভোটের সময় বুথগুলোতে বিজেপি এজেন্ট না পাওয়া যায়।
-
রাজনৈতিকীকরণ: শুভেন্দু কড়া ভাষায় বলেন, “পুলিশের রাজনৈতিকীকরণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতা ধরে রাখতে চাইছেন। রাজীব কুমার নিরপেক্ষ আইপিএস নন, তিনি তৃণমূলের ক্যাডার।”
নির্বাচন কমিশনে নালিশের হুঁশিয়ারি: শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, রাজীব কুমারের যাবতীয় কার্যকলাপের ‘প্রমাণ’ তাঁর কাছে রয়েছে। তিনি অবিলম্বে ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ECI) কাছে রাজীব কুমারকে নির্বাচনের সমস্ত প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখার আবেদন জানাবেন। উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার রাজীব কুমারকে নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কড়া পদক্ষেপের সাক্ষী থেকেছে বাংলা।
তৃণমূলের পাল্টা জবাব: শুভেন্দুর এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, হারের ভয়ে বিজেপি এখন থেকেই পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। রাজীব কুমার একজন দক্ষ আধিকারিক এবং তাঁর চরিত্রহনন করে বিজেপি আসলে বাংলার আইন-শৃঙ্খলার ক্ষতি করতে চাইছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: ২০২৬-এর ভোটে নির্বাচন কমিশন এবার অনেক বেশি সক্রিয়। ইতিমধ্যেই একাধিক পুলিশ আধিকারিককে সরানো হয়েছে। এই আবহে রাজীব কুমারকে নিয়ে শুভেন্দুর এই ‘ষড়যন্ত্র’ তত্ত্ব কমিশন কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখে, এখন সেটাই দেখার।