রসগোল্লার দামে কি শিশুর প্রাণ? তন্দুরের আগুনের মধ্যে ছটফট করছে ১১ বছরের অমর, হাড়হিম করা কাণ্ড

মাত্র একটি রসগোল্লা কি একটি জীবনের চেয়েও দামি? উত্তরপ্রদেশের বস্তী জেলায় ঘটে যাওয়া এক পৈশাচিক ঘটনা এই প্রশ্নই তুলে দিল। বিয়েবাড়িতে অতিরিক্ত একটি রসগোল্লা চাওয়ায় ১১ বছরের এক নাবালককে জ্বলন্ত তন্দুরের আগুনের মধ্যে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল ক্যাটারিং সংস্থার মালিকের বিরুদ্ধে। বর্তমানে মৃত্যুুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে ওই শিশু।

সামান্য রসগোল্লা নিয়ে চরম নৃশংসতা

ঘটনাটি ঘটেছে বস্তী জেলার মালৌলি গোসাই গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামের বাসিন্দা দেবী প্রসাদ নিশাদের ছেলে, ১১ বছর বয়সী অমর নিশাদ ওই বিয়েবাড়িতে খেতে গিয়েছিল। সেখানে একটি রসগোল্লা খাওয়ার পর সে আরও একটি রসগোল্লা চায়। আর এই সামান্য অনুরোধেই তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে ক্যাটারিং সংস্থার মালিক ও কর্মীরা।

অভিযোগ, তর্কের মাঝেই ক্যাটারিং কন্ট্রাক্টর ওই খুদেকে পাঁজাকোলা করে তুলে জ্বলন্ত তন্দুরের ভেতরে ছুড়ে ফেলে দেয়। আগুনের তাপে নিমেষের মধ্যে ঝলসে যায় শিশুটির মুখমণ্ডল থেকে কোমর পর্যন্ত শরীরের অধিকাংশ অংশ।

লখনউতে লড়াই চলছে জীবনের

ঘটনার পর বিয়েবাড়িতে হুলুস্থুল পড়ে যায়। গুরুতর জখম অবস্থায় অমরকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় লখনউ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নাবালকের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

পুলিশি অ্যাকশন: শ্রীঘরে দুই পাষণ্ড

এই অমানবিক ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন গ্রামবাসীরা। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল অভিযুক্তরা। তবে বস্তী জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশে বিশেষ তল্লাশি চালিয়ে লাল জি নিশাদ (৩৫) এবং রমেশ নিশাদ (২৭) নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শ্যামাকান্ত জানিয়েছেন, “অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একটি শিশুর সঙ্গে এমন নিষ্ঠুর আচরণ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”