“অভিষেককে ফোন করলেন রাহুল”-‘দিল্লিতে দোস্তি বাংলায় কুস্তি,’ কটাক্ষ BJP-র

লোকসভায় ডিলিমিটেশন ও মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করাতে ব্যর্থ হয়েছে মোদী সরকার। আর এই পরাজয়ের পরই দিল্লির রাজনীতিতে শুরু হয়েছে এক নয়া সমীকরণ। গত ১২ বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিল লোকসভায় আটকে যাওয়ায় বিজেপি বিরোধী ‘INDIA’ জোটের মধ্যে খুশির হাওয়া। এই সাফল্যের পরেই তৃণমূল ও কংগ্রেস নেতৃত্বের মধ্যে শুরু হয়েছে ঘনঘন ফোনালাপ।
রাহুল-অভিষেক ফোনালাপ ও ধন্যবাদের বন্যা: লোকসভায় বিলটি আটকে দেওয়ার ক্ষেত্রে তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সূত্রের খবর, ফোনে অভিষেক রাহুলকে জানিয়েছেন, “জাতীয় রাজনীতিতে হাওয়া এখন বিজেপির বিরুদ্ধে ঘুরছে।” অন্যদিকে, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ফোন করেন তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনকে। এমনকি সমাজবাদী পার্টি সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবও ফোন করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
অভিষেকের বিস্ফোরক পোস্ট: শুক্রবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, “লোকসভায় ডিলিমিটেশন বিলের ব্যর্থতা বিজেপির অস্বস্তিকে প্রকাশ্যে এনে ফেলেছে। এটা স্পষ্ট যে এনডিএ সরকার এখন ধার করা সময়ে চলছে। তাদের আধিপত্যের ভ্রান্ত ধারণা এখন চুরমার।”
বিজেপির ‘দোস্তি-কুস্তি’ কটাক্ষ: তৃণমূল ও কংগ্রেসের এই হঠাৎ ‘দোস্তি’কে তীব্র কটাক্ষ করেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের প্রশ্ন, যে রাহুল গান্ধী দু’দিন আগে বাংলায় এসে আরজি কর বা সারদা ইস্যু নিয়ে তৃণমূলকে বিঁধেছিলেন, তিনি আজ কোন মুখে অভিষেককে ফোন করছেন? বিজেপির কথায়, “দিল্লিতে দোস্তি আর বাংলায় কুস্তি—সাধারণ মানুষের চোখে এই দ্বিচারিতা ধরা পড়ে গিয়েছে।”
বাংলার সমীকরণ ও ধোঁয়াশা: সংসদে একযোগে লড়াই করলেও বাংলায় কিন্তু লড়াইয়ের ছবিটা ভিন্ন। বিধানসভা ভোটে কংগ্রেস ২৯৪টি আসনেই একলা চলার ডাক দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দিল্লি এবং বাংলার এই বিপরীতমুখী অবস্থান ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।