ভারতের নিশানায় এবার PoK! ডিলিমিটেশন বিল আসতেই কাঁপছে পাকিস্তান, বড় কোনো অভিযানের ইঙ্গিত?

ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সঙ্কেত! সংসদের বিশেষ অধিবেশনে কেন্দ্র যে ‘ডিলিমিটেশন বিল’ বা সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল এনেছে, তা পাশ হলে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় আমূল বদল আসতে চলেছে। তবে এই বিলের সবচেয়ে চর্চিত এবং বিতর্কিত অংশটি হলো— পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoK)।
PoK নিয়ে কড়া বার্তা: নতুন ডিলিমিটেশন বিলে জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভায় পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জন্য ২৪টি আসন সংরক্ষিত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানকে দেওয়া ভারতের এক কড়া কূটনৈতিক এবং প্রশাসনিক হুঁশিয়ারি। ভারত যে দ্রুত PoK-কে নিজের মূল ভূখণ্ডের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা করছে, এই বিল তারই আগাম ইঙ্গিত।
বিলে আর কী কী থাকছে?
-
লোকসভার আসন বৃদ্ধি: বর্তমানে লোকসভার আসন ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব রয়েছে।
-
জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন: সর্বশেষ জনগণনার ভিত্তিতে দেশজুড়ে জনপ্রতিনিধির সংখ্যা সমবণ্টন করাই এই বিলের লক্ষ্য।
-
উত্তর বনাম দক্ষিণ বিতর্ক: বিলটি নিয়ে বিরোধীরা সরব হয়েছে। কংগ্রেসের দাবি, দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হওয়ায় তাদের আসন কমে যেতে পারে, উল্টোদিকে উত্তর ভারতের আসন সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইতিহাস ও আইনি ভিত্তি: ১৯৪৭ সালে মহারাজা হরি সিংয়ের স্বাক্ষরিত ‘ইনস্ট্রুমেন্ট অফ অ্যাকসেশন’ অনুযায়ী সমগ্র জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৯৯৪ সালে সংসদে সর্বসম্মত প্রস্তাবেও PoK খালি করার জন্য পাকিস্তানকে ডাক দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভার মোট ১১৯টি আসনের মধ্যে ২৪টি আসন PoK-এর জন্য খালি রাখা হয়, যার ফলে কার্যকর আসন সংখ্যা এখন ৯৫। নতুন বিল কার্যকর হলে এই আসনগুলির আইনি ভিত্তি আরও মজবুত হবে।
পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া: ভারতের এই পদক্ষেপে স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি জানিয়েছেন, তাঁরা ভারতের এই সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়া এবং PoK সংক্রান্ত বিধানকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছেন।
বিজেপি নেতা বুরা নরসায়া গৌড়ের মতে, “জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে প্রত্যেক ভারতীয়র স্বপ্ন PoK-কে ফিরে পাওয়া। এই বিল সেই স্বপ্নপূরণের আইনি ও নৈতিক হাতিয়ার।”