বিশ্বের স্বস্তি! খুলল হরমুজ প্রণালী: ট্রাম্পের বড় ঘোষণা, ইরানের ওপর কি তবে মার্কিন নৌসেনার ‘দাদাগিরি’ চলবে?

বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী অবশেষে খুলে দেওয়ার ঘোষণা করল ইরান। লেবাননের সঙ্গে ইজরায়েলের সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে তেহরান তাদের অনমনীয় অবস্থান থেকে সরে এল। তবে জলপথ খুললেও উত্তেজনার পারদ এখনই নামছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান জলপথ খুললেও মার্কিন নৌসেনার ‘অবরোধ’ বজায় থাকবে।

ইরানের ঘোষণা ও কূটনীতির চাল শুক্রবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, লেবাননে যুদ্ধবিরতিকে সম্মান জানিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে ইরান একটি নির্দিষ্ট ‘কোঅর্ডিনেটেড রুট’ বা সমন্বিত পথের কথা উল্লেখ করেছে, যা দেশটির মেরিটাইম অর্গানাইজেশন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে।

ট্রাম্পের পাল্টা হুঙ্কার ইরানের এই ঘোষণার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক পোস্ট করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়ে দাবি করেন, “ইরান আর কখনও এই জলপথ বন্ধ করবে না বলে সম্মত হয়েছে।” তবে ট্রাম্পের সুর ছিল যথেষ্ট কড়া। তিনি জানান:

“হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খোলা থাকলেও মার্কিন নৌসেনার নজরদারি ও অবরোধ জারি থাকবে। ইরানের সাথে আমাদের লেনদেন এখন ১০০ শতাংশ সম্পূর্ণ।”

কেন এই অস্থিরতা? গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ইজরায়েলি হামলার পর ইরান পাল্টা আক্রমণ চালায় এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই অবরোধের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছিল।

নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি এদিকে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ট্রাম্পের অনুরোধে তিনি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান এখনই থামছে না। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই হিজবুল্লাহর ৯০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে, বাকি কাজটুকুও দ্রুত শেষ করা হবে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও পরবর্তী ধাপ ইসলামাবাদে পাকিস্তান সরকার এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের মধ্যস্থতায় ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক চললেও জলপথের মালিকানা নিয়ে বিবাদ মেটেনি। ইরান এটিকে নিজেদের ‘আঞ্চলিক জলপথ’ বলে দাবি করলেও আমেরিকা একে ‘আন্তর্জাতিক জলপথ’ হিসেবে দাবি করে আসছে। এই দ্বৈরথের মাঝেই আপাতত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ প্রশস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Samrat Das
  • Samrat Das