ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ নয়! ‘বাল সফেদ’ মন্তব্যে লোকসভায় বিরোধীদের কড়া বার্তা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নারী সংরক্ষণ ও ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে যখন লোকসভা উত্তপ্ত, ঠিক তখনই মেজাজ হারালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিরোধী শিবিরের ক্রমাগত বাধা ও সমালোচনার মুখে দাঁড়িয়ে শাহ সাফ জানিয়ে দিলেন, বিরোধীরা যতই স্বপ্ন দেখুক, তাদের আসন বদলানোর দিন আর আসবে না। আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তিনি বলেন, “চুল সাদা হয়ে যাবে, তবু এই দিকে (সরকার পক্ষ) বসতে পারবে না।” দক্ষিণের রাজ্য নিয়ে ভয় ভাঙালেন শাহ: বিরোধীদের প্রধান অভিযোগ ছিল, সীমানা পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন হলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর লোকসভা আসন কমে যাবে। এই দাবিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়ে শাহ পরিসংখ্যান পেশ করেন। তিনি জানান:
-
ডিলিমিটেশনের পর দক্ষিণের ৫টি রাজ্যের মোট আসন ১২৯ থেকে বেড়ে ১৯৫ হবে।
-
উত্তর ও দক্ষিণ—কোনও প্রান্তেরই প্রতিনিধিত্ব কমবে না, বরং সমানুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাবে।
অখিলেশকে পালটা তোপ: সংখ্যালঘু সংরক্ষণের দাবিতে সরব হওয়া সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবকেও ছেড়ে কথা বলেননি শাহ। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ অসাংবিধানিক। শাহের সরস মন্তব্য, “আপনারা চাইলে আপনাদের সব টিকিট মুসলিম মহিলাদের দিতে পারেন, আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু সংবিধানে ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণের জায়গা নেই।”
‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, জনশুমারির (Census) কাজ চলছে এবং তাতে জাতি-ভিত্তিক গণনার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২৯ সালের নির্বাচন থেকেই নারী সংরক্ষণ কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকার বদ্ধপরিকর। শাহের মতে, বিরোধীরা নারী ক্ষমতায়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যা ইতিহাস মনে রাখবে।
সংসদে চরম উত্তেজনা: অমিত শাহের “বাল সফেদ হো যায়েগা” মন্তব্যটি করার পরেই বিরোধী বেঞ্চ থেকে তীব্র প্রতিবাদ ভেসে আসে। কংগ্রেস ও অন্যান্য দলগুলি এই ভাষাকে ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে কটাক্ষ করলেও, শাহ নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৭-এর উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন এবং ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে বিরোধীদের মানসিকভাবে চাপে রাখতেই এই আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়েছেন ‘চাণক্য’।