রাহুলের সাংসদ পদ কি বিপন্ন? দ্বৈত নাগরিকত্ব মামলায় FIR-এর নির্দেশে তোলপাড় দিল্লি

লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি ও নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে সংসদের লড়াই যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই আইনি লড়াইয়ে বড়সড় ধাক্কা খেলেন রাহুল গান্ধী। কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতার নাগরিকত্ব নিয়ে ওঠা বিতর্কে এবার এফআইআর (FIR) দায়ের করার নির্দেশ দিল এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চ। রাহুল গান্ধী আসলে ভারতের পাশাপাশি ব্রিটেনেরও নাগরিক— এই মারাত্মক অভিযোগের ভিত্তিতেই এবার শুরু হবে তদন্ত।
আদালতের ঐতিহাসিক নির্দেশ: কর্নাটকের বিজেপি কর্মী এস বিগনেশ শিশিরের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে বিচারপতি সুভাষ বিদ্যার্থীর বেঞ্চ শুক্রবার এই চাঞ্চল্যকর রায় দেন। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, এফআইআর দায়ের হলে রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির সহযোগিতায় এই দ্বৈত নাগরিকত্বের রহস্য উন্মোচন করতে পারবে। এর আগে রায়বরেলির বিশেষ জনপ্রতিনিধি আদালত এই আবেদন খারিজ করে দিলেও, হাইকোর্ট সেই রায় পাল্টে দিয়ে তদন্তের পথ প্রশস্ত করল।
মামলাকারীর দাবি ও অভিযোগ: বিজেপি কর্মী বিগনেশ শিশিরের অভিযোগ, রাহুল গান্ধীর কাছে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব রয়েছে, যা ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী অবৈধ। তাঁর দাবি:
-
রাহুল গান্ধী জেনেশুনেই তথ্য গোপন করে ভারতের লোকসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
-
ব্রিটেনের কোম্পানির নথিতে রাহুলের নাগরিকত্ব ‘ব্রিটিশ’ হিসেবে উল্লেখ থাকার দাবি করেছেন তিনি। হাইকোর্টের নির্দেশের পর বিগনেশ সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেন, “এটি একটি ল্যান্ডমার্ক এবং ঐতিহাসিক রায়। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আদালতের কাছে ঋণী থাকব।”
আইনি জটিলতায় রাহুল: গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর এই মামলাটি লখনউতে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি নিম্ন আদালত জানিয়েছিল যে নাগরিকত্বের বিষয়ে বিচারের এক্তিয়ার তাদের নেই। কিন্তু হাইকোর্ট সাফ জানিয়ে দিল, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশি তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। উত্তরপ্রদেশের রায়বরেলি জেলার কোতোয়ালি থানাকে এই এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব: ২০২৬-এর রাজনীতিতে এই রায় কংগ্রেসের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াল। যদি তদন্তে দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রমাণ মেলে, তবে সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ খারিজ হওয়ার মতো গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বিরোধীরা যখন ডিলিমিটেশন বিল আটকে দিয়ে সরকারকে চাপে ফেলছে, ঠিক তখনই এই আইনি পদক্ষেপ কংগ্রেসকে রক্ষণাত্মক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।