নিজের প্রয়োজনেই কি পেনশন ছাড়লেন বিকাশ? যাদবপুরের সিপিএম প্রার্থীর বড় পদক্ষেপে শোরগোল রাজনৈতিক মহলে!

ভোটের ময়দানে যখন একে অপরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে, ঠিক তখনই এক সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়ে নজর কাড়লেন যাদবপুরের সিপিএম প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। সদ্য প্রাক্তন হওয়া এই রাজ্যসভা সাংসদ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি সরকারের কাছ থেকে কোনো পেনশন নেবেন না। বৃহস্পতিবারই সংসদের সেক্রেটারি জেনারেলকে চিঠি লিখে নিজের এই ইচ্ছার কথা স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।

পেনশন প্রত্যাখ্যানের কারণ কী? সিপিএমের অন্দরে সাধারণত নিয়ম হলো— জনপ্রতিনিধিরা তাঁদের বেতন বা পেনশনের টাকা দলকে দিয়ে দেন এবং দল সেখান থেকে তাঁদের কিছু সাম্মানিক প্রদান করে। কিন্তু বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এই প্রথা ভেঙে সরাসরি পেনশন নিতেই অস্বীকার করেছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি সাফ জানিয়েছেন, “পেনশন যাঁর প্রয়োজন তিনি নেবেন। আমার পেনশন প্রয়োজন নেই, তাই নেব না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, প্রত্যেকের স্বাধীন চিন্তা রয়েছে এবং অন্যরা নিচ্ছে বলেই তাঁকে নিতে হবে এমন কোনো মানে নেই।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তুলনা ও কড়া কটাক্ষ: বিকাশবাবুর এই সিদ্ধান্তের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেতন না নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনেছেন। তবে এতেই চটেছেন পোড় খাওয়া এই আইনজীবী। তিনি পাল্টা দাবি করে বলেন:

“যাঁরা তুলনা করছেন, তাঁরা জানেন না যে আমি যখন কলকাতার মেয়র ছিলাম, তখনও কোনো সাম্মানিক নিইনি। তাই মুখ্যমন্ত্রীই আমাকে দেখে শিখেছেন, আমাকে মুখ্যমন্ত্রীকে দেখে শিখতে হয় না।”

সিপিএমের অন্দরে চর্চা: দলের একাংশ মনে করছে, বিকাশরঞ্জনের এই পদক্ষেপ তাঁর ব্যক্তিগত স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও উজ্জ্বল করবে। বিশেষ করে যখন যাদবপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে লড়াই করছেন, তখন তাঁর এই ‘নিঃস্বার্থ’ ইমেজ ভোটারদের মনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

মেয়র থেকে সাংসদ— কোনো পদেই যে সরকারি অর্থের প্রতি তাঁর মোহ নেই, পেনশন ত্যাগের মাধ্যমে ফের একবার তা প্রমাণ করলেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তবে বিরোধীরা এই পদক্ষেপকে স্রেফ ‘নির্বাচনী গিমিক’ বলতেও ছাড়ছে না।

Samrat Das
  • Samrat Das