চপ ভাজা থেকে রুটি বেলা—ভোটের বাংলায় এখন ‘রান্নাঘর’ থেকেই জয়ের রাস্তা! কোন প্রার্থী কী রাঁধছেন?

বাংলার ভোট মানেই একসময় ছিল তপ্ত বক্তৃতা আর দেওয়াল লিখনের লড়াই। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন চিত্র। রাজনীতির ময়দানে এখন তর্কের চেয়ে বেশি শব্দ শোনা যাচ্ছে কড়াইতে খুন্তি নাড়ার! প্রার্থী যেই হোন—শাসক কি বিরোধী—সবার লক্ষ্য এখন একটাই, ভোটারদের হেঁশেলে ঢুকে তাঁদের মন জয় করা।
মমতার স্টাইলে এখন সবাই অভ্যস্ত: একসময় পাহাড়ে মোমো বানানো কিংবা মেলায় জিলিপি ভাজা ছিল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সিগনেচার স্টাইল’। জন সংযোগের এই বিশেষ কৌশলকে একসময় বিরোধীরা কটাক্ষ করলেও, এবারের নির্বাচনে দেখা যাচ্ছে উল্টো ছবি। এখন বিজেপি থেকে বাম, সবাই মেতেছেন হাতা-খুন্তির লড়াইয়ে।
কে কী করছেন? এক নজরে দেখে নিন তারকা প্রার্থীদের ‘রান্নাঘর’ অভিযান:
-
মদন মিত্র ও অরূপ বিশ্বাস: কামারহাটির তৃণমূল প্রার্থী মদন মিত্রকে দেখা যাচ্ছে রাস্তার ধারের দোকানে বসে চা বানাতে। অন্যদিকে, অরূপ বিশ্বাস বাজারে হাতে মাছ নিয়ে ঘুরছেন বাঙালির একদম ঘরোয়া মেজাজে।
-
অগ্নিমিত্রা পাল ও সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়: আসানসোল দক্ষিণে বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল রুটি বেলে তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন। আবার ছাতনার বিজেপি প্রার্থী সত্যনারায়ণ বাবুকে দেখা গেছে কড়াই হাতে ঘুগনি আর চপ ভাজতে।
-
মীনাক্ষী ও শতরূপ: বাম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে দেখা যাচ্ছে গ্রামের মা-বোনেদের সঙ্গে উনুন পাড়ে বসে সবজি কাটতে। কসবার শতরূপ ঘোষও পিছিয়ে নেই হেঁশেল রাজনীতিতে।
-
নতুন চমক: আরামবাগের মিতালী বাগকে দেখা গেছে খেতে নেমে ধান চাষ করতে, আবার পুরশুড়ার বিজেপি প্রার্থী শুভজিৎ দাশগুপ্ত এক ভোটারের বাড়ি গিয়ে বসে পড়েছেন মোচা কাটতে!
কেন এই হাতা-খুন্তি প্রেম? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি সুপরিকল্পিত ‘ইমেজ বিল্ডিং’ কৌশল। এর প্রধান তিনটি কারণ হলো: ১. মাটির কাছাকাছি ভাবমূর্তি: এসির আরাম ছেড়ে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক শ্রমের অংশীদার হওয়া। ২. সোশ্যাল মিডিয়া ইমপ্যাক্ট: চপ ভাজা বা মাছ ধরার ছবি দ্রুত ভাইরাল হয়, যা প্রার্থীর প্রতি সাধারণ মানুষের এক ধরণের আবেগপ্রবণ টান তৈরি করে। ৩. পাল্টা জবাব: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফল কৌশলকে তাঁরই অস্ত্রে টেক্কা দেওয়া।
জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া: প্রার্থীদের এই রান্নাঘরে ঢুকে পড়ার ঘটনা নিয়ে আমজনতার মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ একে দেখছেন প্রার্থীর আন্তরিকতা হিসেবে, আবার কেউ একে দেখছেন নিছক ‘ভোট পাওয়ার গিমিক’ হিসেবে।
তবে প্রশ্নটা রয়েই যাচ্ছে—ভোটের ফল বেরোনোর পর এই প্রার্থীদের কি আবার মানুষের হেঁশেলে দেখা যাবে, নাকি এই খুন্তি নাড়ার প্রেম কেবল ভোটের প্রচারেই সীমাবদ্ধ থাকবে? উত্তর দেবে সময়।