চলন্ত ট্রেনে বন্দুকের মুখে লণ্ডভণ্ড! ৭ লাখ টাকা লুটে চলন্ত ট্রেন থেকেই ঝাঁপ দিল ডাকাতরা।

উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপুরে চলন্ত ট্রেনে বন্দুক দেখিয়ে ফিল্মি কায়দায় ডাকাতির ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। দুষ্কৃতীরা আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে ব্যবসায়ীদের থেকে লক্ষাধিক টাকা লুটে নিয়ে চম্পট দেয়। রুদ্রপুর ও উত্তরপ্রদেশের বিলাসপুর রেল স্টেশনের মাঝে ঘটা এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড়সড় কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

টার্গেট ছিল ‘৭ লাখ টাকা’

জানা গেছে, রুদ্রপুরের সিংহ কলোনির ‘জপনীত অটো’-র দুই কর্মচারী— ঋত্বিক মণ্ডল এবং সাহেব সিং দিল্লি যাচ্ছিলেন দোকানের মালপত্র কিনতে। তাঁদের কাছে ছিল প্রায় ৭ লক্ষ টাকা নগদ, যা তাঁরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নিজেদের কোমরের বেল্টে লুকিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু দুষ্কৃতীদের কাছে সম্ভবত এই বিপুল টাকার আগাম খবর ছিল। তিন জন সন্দেহভাজন ব্যক্তি সারা পথ তাঁদের ওপর কড়া নজর রাখছিল।

বিলাসপুরের কাছে হামলা ও বন্দুকবাজি

সম্পর্ক ক্রান্তি এক্সপ্রেস যখন বিলাসপুর স্টেশনের কাছে গতি কমায়, তখনই সুযোগ বুঝে দুষ্কৃতীরা দুই কর্মচারীকে ঘিরে ধরে। পিস্তল উঁচিয়ে তাঁদের জিম্মি করে কোমরে লুকানো ৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। লুটপাট শেষ করেই দুষ্কৃতীরা কামরার ভেতরে ফাঁকা আওয়াজ (হাওয়াই ফায়ারিং) করে এবং চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ দিয়ে অন্ধকারের মধ্যে উধাও হয়ে যায়।

ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ ও প্রশাসনের তৎপরতা

এই ঘটনার খবর জানাজানি হতেই রুদ্রপুরের ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিপুল সংখ্যক ব্যবসায়ী রুদ্রপুর রেল স্টেশনে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ দেখান। খবর পেয়ে দ্রুত তদন্তে নামে আরপিএফ (RPF)।

তদন্তের গতিপ্রকৃতি: রেল পুলিশ ইতিমধ্যেই বিলাসপুর ও রুদ্রপুর স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। পুলিশ আধিকারিকদের দাবি, ডাকাত দলটির গতিবিধি এবং পালানোর পথ চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

রেলপথে যাতায়াতকারী যাত্রীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে সুরক্ষিত কামরার ভেতরে কীভাবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুষ্কৃতীরা ঢুকল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই।