কৃষকদের জন্য বাম্পার লটারি! এবার ক্ষেতের আইলেই তৈরি হবে বিদ্যুৎ, বড় ঘোষণা সিএম মোহনের।

মধ্যপ্রদেশের কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করতে এবং তাঁদের স্বনির্ভর করতে এক বিশাল মাস্টারপ্ল্যান ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মোহন যাদব। বুধবার মন্ত্রণালয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি দপ্তরের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, কৃষকদের সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়াই তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার। তবে এবার শুধু বিদ্যুৎ দেওয়াই নয়, কৃষকদের নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে রাজ্য সরকার।
লক্ষ্য: ২ লাখ সোলার পাম্প ও ‘কুসুম’ যোজনা
মুখ্যমন্ত্রী আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, এই চলতি আর্থিক বছরের মধ্যেই ২ লক্ষাধিক কৃষককে সোলার পাম্পের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন:
-
কৃষকরা সৌরশক্তি ব্যবহার করলে উৎপাদন খরচ কমবে এবং লাভের পরিমাণ বাড়বে।
-
সূর্য মিত্র কৃষি ফিডার যোজনা (কুসুম সি): এর মাধ্যমে প্রায় ১০ লক্ষ কৃষককে সোলার গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা হবে, যাতে তাঁরা দিনের বেলাতেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পান।
-
আগামী দুই বছরে ৪ লক্ষ পাম্পকে সৌর শক্তিতে রূপান্তরের মেগা টার্গেট নেওয়া হয়েছে।
বর্জ্য থেকে আয় করবে পুরসভা
শহর এলাকার জন্য মুখ্যমন্ত্রী একটি অভিনব কৌশলের কথা বলেছেন। তিনি জানান, রাজ্যের পুরসভাগুলো এখন থেকে আবর্জনা বিক্রি করে এবং ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর যোজনা’ (রুফ টপ স্কিম) কার্যকর করে নিজেদের আয় বাড়াতে পারবে। এই বিষয়ে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য ভোপালে এক বিশেষ ওরিয়েন্টেশন ক্যাম্প করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মধ্যপ্রদেশ-উত্তরপ্রদেশ যৌথ মেগা প্রজেক্ট
বিদ্যুৎ উৎপাদনে ইতিহাস গড়তে উত্তরপ্রদেশ সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মুরেনায় একটি ২ হাজার মেগাওয়াট (২ গিগাওয়াট) ক্ষমতার ‘আল্ট্রা মেগা রিনিউয়েবল এনার্জি পাওয়ার পার্ক’ তৈরি করছে মধ্যপ্রদেশ। এই বিশাল প্রকল্পে মধ্যপ্রদেশের জ্বালানি স্বার্থ যাতে বজায় থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
দিনের বেলায় বিদ্যুৎ, রাতে শান্তি
অতিরিক্ত মুখ্য সচিব মনু শ্রীবাস্তব জানান, কৃষকদের সেচের জন্য আর রাতের অন্ধকারের অপেক্ষা করতে হবে না। ৪৯৩টি সাব-স্টেশনের মাধ্যমে সৌর বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হবে সরাসরি ক্ষেতে। ইতিমধ্যেই ১ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে এবং আড়াই লক্ষ পাম্প ইনস্টল করার কাজ শেষ হয়েছে।