রাজভবন বনাম নবান্ন: ‘বাংলা কেন পিছিয়ে?’ রাজ্যপালের চরম প্রশ্নে মেজাজ হারালেন মমতা! তুঙ্গে সংঘাত!

নববর্ষের আনন্দ ও উৎসবের মেজাজের মধ্যেই বঙ্গ রাজনীতিতে বইতে শুরু করল সংঘাতের চোরাব্রোত। সৌজন্যে— রাজ্যপাল আর এন রবি এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বর্তমান অবস্থা নিয়ে রাজ্যপালের করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোরদার তর্জা।
রাজ্যপালের ‘পরিবর্তন’-এর ডাক: রাজভবনে নববর্ষের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বাংলার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কার্যত আক্ষেপ প্রকাশ করেন নবনিযুক্ত রাজ্যপাল আর এন রবি। তিনি বলেন, “গত কয়েক দশকে বাংলার পরিস্থিতি ধারাবাহিকভাবে খারাপ হয়েছে। এক সময় দেশজ অর্থনীতিতে যে বাংলা শীর্ষে ছিল, আজ তা পিছিয়ে পড়ছে।” তরুণ প্রজন্মকে পরিবর্তনের ডাক দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, নতুন ভারত যখন বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে, তখন বাংলা কেন পিছিয়ে থাকবে? নেতিবাচকতা ছেড়ে ইতিবাচকতার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার সংকল্প নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
পাল্টা তোপ মমতার: রাজ্যপালের এই ‘পরিবর্তন’-এর ডাক এবং গত কয়েক দশকের খতিয়ান নিয়ে করা মন্তব্যকে ভালোভোবে নেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের জনসভা থেকে নাম না করে কড়া জবাব দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলার লাটসাহেব, যিনি সবচেয়ে বড় বাড়িতে থাকেন, আজ বিবৃতি দিয়েছেন। আজ নববর্ষ, বাংলার মানুষকে অভিনন্দন জানানোর বদলে আমাকে গালি দিচ্ছেন!” আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ: রাজ্যে সাম্প্রতিক অশান্তি প্রসঙ্গে সরাসরি নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রকে বিঁধেছেন মমতা। তাঁর দাবি, বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা তাঁর হাতে নেই। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট অভিযোগ করেন, “আগে তো অশান্তি হতো না। এখন সব আপনাদের (কেন্দ্র ও কমিশন) অধীনে যাওয়ার পর প্রতিদিন অশান্তি হচ্ছে।”
এক নজরে সংঘাতের প্রেক্ষাপট:
-
নতুন রাজ্যপাল: সিভি আনন্দ বোসের ইস্তফার পর তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আর এন রবি বাংলার অস্থায়ী রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
-
মধুর শুরু, তিক্ত মোড়: শপথের দিন রাজভবনে মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালের মধ্যে সৌজন্য বিনিময় হয়েছিল। এমনকি কিছুদিন আগেই এক ঘণ্টার একান্তে বৈঠক করেছিলেন দু’জনে।
-
চিন্হা: ভোটমুখী বাংলায় রাজ্যপালের এই “পরিবর্তন”-এর ডাক এবং মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা “লাটসাহেব” কটাক্ষ রাজভবন-নবান্ন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল।
এডিটরস নোট: নির্বাচনের আবহে রাজ্যপালের এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক মহল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে। বিরোধীরা যেখানে রাজ্যে ‘পরিবর্তনের’ কথা বলছে, সেখানে সাংবিধানিক প্রধানের মুখে একই সুর কি শাসক দলের জন্য অস্বস্তির? উত্তর খুঁজছে আমজনতা।