“বাংলার মাটিতে বাবরি হতে দেব না!” হুমায়ুন ইস্যুতে মমতা-অভিষেককে চরম হুঁশিয়ারি অমিত শাহের

নির্বাচনী আবহে বাংলার রাজনৈতিক পারদ এখন সপ্তমে। ভরতপুরের বিতর্কিত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে অস্ত্র করে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেনজির আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিলেন, “বাংলার মাটিতে কোনোভাবেই ‘বাবরি মসজিদ’ তৈরি হতে দেবে না গেরুয়া শিবির।”

কেন হঠাৎ ‘বাবরি’ প্রসঙ্গ? সম্প্রতি তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের কিছু বিতর্কিত মন্তব্যের পর থেকেই সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এদিন একটি নির্বাচনী জনসভা থেকে শাহ দাবি করেন, হুমায়ুন কবীর আসলে “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের চ্যালা”। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, তৃণমূল পরিকল্পিতভাবে মেরুকরণের রাজনীতি করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মমতাদি কি হুমায়ুনকে দিয়ে রাজ্যে আবার ‘বাবরি মসজিদ’ বানানোর স্বপ্ন দেখছেন?

মমতা-অভিষেককে শাহের হুঁশিয়ারি: তীব্র আক্রমণাত্মক মেজাজে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন:

“এখানকার মাটিতে বাবরি মসজিদ হবে না, এটা কান খুলে শুনে রাখুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।”

রাজনৈতিক সমীকরণ: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুর্শিদাবাদ ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে হুমায়ুন কবীর অত্যন্ত পরিচিত এবং প্রভাবশালী মুখ। তাঁর মন্তব্যকে হাতিয়ার করে বিজেপি আসলে হিন্দু ভোটব্যাঙ্ককে একজোট করতে চাইছে। বিশেষ করে ‘বাবরি মসজিদ’ এবং ‘অযোধ্যা’ ইস্যুকে বাংলার রাজনীতির ময়দানে টেনে এনে বিজেপি বুঝিয়ে দিল, ২০২৬-এর লড়াইয়ে মেরুকরণই হতে চলেছে তাদের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।

ভোটের প্রাক্কালে শাহের এই মন্তব্য যে শাসক শিবিরের ওপর চাপ বাড়াল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। পাল্টা জবাবে তৃণমূল কী বলে, এখন সেটাই দেখার।