“আদালতকে বিভ্রান্ত করছে রাজ্য!” ডিএ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বিস্ফোরক দাবি কর্মচারী সংগঠনের

বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে রাজ্য সরকার এবং সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির লড়াই এবার এক নাটকীয় মোড় নিল। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য হলফনামা দিয়ে দাবি করেছে যে, বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ইতিমধ্যে প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু পালটা অভিযোগে কর্মচারী সংগঠনগুলি সরব হয়ে জানিয়েছে, রাজ্য সরকার শীর্ষ আদালতকে ভুল তথ্য দিচ্ছে এবং প্রাপ্য টাকার চেয়ে অনেক কম টাকা দেওয়া হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের দাবি: বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চে রাজ্যের আইনজীবীরা জানান:

  • প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার কমিটির পরামর্শ মেনে ৬ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

  • নির্বাচনী পরিস্থিতির কারণে বাকি বকেয়ার হিসাব তৈরির কাজ কিছুটা ধীর গতিতে চলছে।

কর্মী সংগঠনগুলির বিস্ফোরক অভিযোগ: আবেদনকারীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম এবং কনফেডারেশন সভাপতি শ্যামল কুমার মিত্রের মূল অভিযোগগুলি হলো:

  • ভুল ইনডেক্স ব্যবহার: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (AICPI) মেনে ডিএ দেওয়া। কিন্তু অভিযোগ, রাজ্য সরকার ‘ভিত্তিবর্ষ’ পালটে দিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করছে।

  • শ্রেণিবিভাজন: আদালতের নির্দেশে কোথাও কোনো ভেদাভেদের কথা না থাকলেও রাজ্য সরকার গ্রুপ এ, বি, সি এবং ডি কর্মীদের আলাদা আলাদা ভাবে ডিএ দিচ্ছে, যা নিয়মবিরুদ্ধ।

  • নির্দেশ অমান্য: ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়ার ২৫ শতাংশ মেটানোর কথা থাকলেও রাজ্য তা করেনি বলে অভিযোগ। এই মর্মে আদালত অবমাননার মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ ও শুনানি: বিচারপতিরা জানতে চেয়েছিলেন, কর্মচারীরা টাকা পাচ্ছেন কি না। টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে শুনে আদালত কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করলেও কর্মীদের আপত্তির কথা নথিভুক্ত করেছে। আগামী ২৭ এপ্রিল কমিটির সঙ্গে রাজ্যের ফের বৈঠক হওয়ার কথা। সেই বৈঠকের রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পর আগামী ৬ মে (ভোটের পর) এই মামলার পরবর্তী মেগা শুনানি হবে।

ডিএ নিয়ে এই দীর্ঘ আইনি লড়াই এখন কর্মচারী মহলে সবথেকে বড় আলোচনার বিষয়। ৬ মে-র শুনানিতে আদালত রাজ্যের দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে কী চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মী।