“ভোটের আগে তপ্ত বাংলা!”-১৫২ আসনে নামছে ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী

বেজে গিয়েছে যুদ্ধের দামামা। আগামী ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৫২টিতে হতে চলেছে প্রথম দফার মেগা ভোটগ্রহণ। আর এই দফার ভোটকে নিশ্ছিদ্র করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন। উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল—সর্বত্র অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হচ্ছে মোট ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী।

বাহিনী মোতায়েনে শীর্ষে কোন জেলা?

কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় সবথেকে বেশি নজরদারি থাকছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। জেলাটিকে দুটি ভাগে ভাগ করে মোট ৩১৬ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। এর পরেই রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর গড় হিসেবে পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুর

একনজরে শীর্ষ ৫ জেলার বাহিনীর বহর:

  • মুর্শিদাবাদ (পুলিশ জেলা + জঙ্গিপুর): ৩১৬ কোম্পানি

  • পূর্ব মেদিনীপুর: ২৭৩ কোম্পানি

  • পশ্চিম মেদিনীপুর: ২৭১ কোম্পানি

  • বাঁকুড়া: ১৯৩ কোম্পানি

  • বীরভূম: ১৭৬ কোম্পানি

উত্তরবঙ্গ ও পাহাড়ের চিত্র

সমগ্র উত্তরবঙ্গে প্রথম দফাতেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। কোচবিহারে ১৪৬ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করে কড়া বার্তার ইঙ্গিত দিয়েছে কমিশন। পাহাড়ের তিন জেলায় তুলনামূলক কম বাহিনী থাকলেও মালদা ও উত্তর দিনাজপুরে মোতায়েন থাকছে পর্যাপ্ত ফোর্স।

একনজরে জেলার হিসেব (কোম্পানিতে):

এলাকা বাহিনীর পরিমাণ এলাকা বাহিনীর পরিমাণ
মুর্শিদাবাদ ২৪০ + ৭৬ (জঙ্গিপুর) কোচবিহার ১৪৬
মালদা ১৭২ পুরুলিয়া ১৫১
বাঁকুড়া ১৯৩ ঝাড়গ্রাম ৭৪
দার্জিলিং ৬১ শিলিগুড়ি ৪৪
বীরভূম ১৭৬ আসানসোল-দুর্গাপুর ১২৫

ভোটের নির্ঘণ্ট: একনজরে

  • প্রথম দফা: ২৩ এপ্রিল (১৫২ আসন)

  • দ্বিতীয় দফা: ২৯ এপ্রিল (১৪২ আসন)

  • ফলাফল: ৪ মে

কমিশন সূত্রে খবর, হিংসা রুখতে শুধু বুথ নয়, অলিগলিতেও টহল দেবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সিসিটিভি লাগানো ক্যাব থেকে শুরু করে ড্রোন নজরদারি—অবাধ ভোট নিশ্চিত করতে কোনো খামতি রাখতে চাইছে না কমিশন। ২৩ এপ্রিলের এই ‘প্রেস্টিজ ফাইটে’ শেষ হাসি কে হাসে, এখন সেটাই দেখার।