“ভোটের মুখে I-PAC কাঁটায় বিদ্ধ তৃণমূল!”-এবার প্রতীকের ভাই ও ভাতৃবধূকে তলব করল ED

বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বড়সড় ধাক্কা খেল রাজ্যের শাসকদলের নির্বাচনী রণকৌশল তৈরিকারী সংস্থা I-PAC। আর্থিক নয়ছয় বা মানি লন্ডারিং মামলায় এবার সংস্থাটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ প্রতীক জৈনের পরিবারের সদস্যদের দিল্লিতে তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, প্রতীকের ভাই পুলকিত এবং তাঁর স্ত্রী বার্বিকে ১৫ এপ্রিল দিল্লির সদর দফতরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন এই তলব? কী বলছে ED?
সম্প্রতি প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখে পড়েছিল ED। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে পৌঁছে যাওয়ায় মাঝপথে তল্লাশি থমকে যায়। তবে তদন্তকারীরা দমে যাননি। তদন্তে নেমে তাঁদের হাতে যে চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে, তার ভিত্তিতেই এই তলব:
-
৫০ কোটির কেলেঙ্কারি: সংস্থার ডিরেক্টর ভিনেশ চান্দেলের গ্রেফতারির পর প্রায় ৫০ কোটি টাকার ছায়াবৃত্তির হদিশ পেয়েছে ED।
-
আর্থিক কারচুপি: তদন্তকারীদের দাবি, ভুয়া ইনভয়েস তৈরি, হাওয়ালার মাধ্যমে টাকা লেনদেন এবং আন্তর্জাতিক স্তরে সন্দেহজনক ফান্ড ট্রান্সফারের প্রমাণ মিলেছে।
-
জৈন পরিবারের ভূমিকা: ED-র সন্দেহ, প্রতীকের ভাই পুলকিত ও তাঁর স্ত্রী এই লেনদেনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানেন এবং মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তাঁদের কাছে থাকতে পারে।
ভোটের আগে টানটান উত্তেজনা
I-PAC-এর ডিরেক্টর তথা ৩৩ শতাংশ শেয়ার হোল্ডার ভিনেশ চান্দেলকে ইতিমধ্যেই ১০ দিনের হেফাজতে নিয়েছে ED। প্রিভেনশনস অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর অধীনে দায়ের করা এই মামলায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই চাপ বাড়ছে কলকাতার ওপর। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে তোপ দেগেছেন। তাঁর মতে, ভোট আসতেই বিজেপি কেন্দ্রীয় সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ
উল্লেখ্য, এই মামলা চলাকালীন প্রতীক জৈনের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিকে খুব একটা ভালো চোখে দেখেনি আদালত। কোর্টের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ ছিল, “তদন্তের কাজে এভাবে হস্তক্ষেপ করা কাম্য নয়।” ফলে আইনি ও রাজনৈতিক—উভয় দিক থেকেই এখন ব্যাকফুটে শাসক শিবির।
আগামী ১৫ এপ্রিল জৈন পরিবারের বয়ান রেকর্ড করার পর এই মামলার মোড় কোন দিকে ঘোরে, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল। ভোটের আবহে এই ‘টাকা পাচার’ ইস্যু যে বিরোধী দলগুলির হাতে বড় হাতিয়ার হয়ে উঠবে, তা বলাই বাহুল্য।