আশা ভোঁসলের শেষকৃত্যেও রাজনীতি! মিলিন্দ দেওরার এক টুইটে তুলকালাম মহারাষ্ট্রে, কংগ্রেসের তোপ ‘বেইমান’!

পদ্মবিভূষণ কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলের প্রয়াণে যখন গোটা দেশ শোকস্তব্ধ, তখন তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে কেন্দ্র করেই মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে শুরু হলো নজিরবিহীন ‘কাদা ছোড়াছুড়ি’। সৌজন্যে— শিবসেনার (শিন্ডে গোষ্ঠী) সাংসদ মিলিন্দ দেওরার একটি বিতর্কিত টুইট। যা দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে মহারাষ্ট্র কংগ্রেস।

বিতর্কের সূত্রপাত: একটি টুইট ও ‘অদৃশ্য’ নিশানা

মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে আশা ভোঁসলের শেষকৃত্যের পরিবেশ ছিল শান্ত ও গাম্ভীর্যপূর্ণ। কিন্তু তার মাঝেই মিলিন্দ দেওরা টুইট করে বসেন যে, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের অনুপস্থিতি প্রমাণ করে তারা সাধারণ মানুষের স্পন্দন থেকে কতটা দূরে সরে গেছে। যদিও তিনি সরাসরি কারও নাম নেননি, কিন্তু কংগ্রেস এটিকে নিজেদের গায়ে মেখে নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে।

কংগ্রেসের তোপ: “যাদের নুন খেয়েছেন, তাদের সঙ্গেই বেইমানি!”

মিলিন্দ দেওরার টুইট দেখা মাত্রই রণংদেহী মেজাজে আসরে নামে মহারাষ্ট্র কংগ্রেস। প্রবীণ নেতা সুশীল কুমার শিন্ডে থেকে শুরু করে প্রণিতি শিন্ডে— একাধিক নেতার উপস্থিতির প্রমাণ দিয়ে কংগ্রেস দাবি করে, মিলিন্দ মিথ্যে বলছেন। কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়:

“যে কংগ্রেস দল দেওরা পরিবারকে সম্মান, নাম ও প্রতিপত্তি দিয়েছে, আজ মিলিন্দ তাদের বিরুদ্ধেই চিৎকার করছেন! শিন্ডে গোষ্ঠীর দরজায় দাঁড়িয়ে সাংসদ পদের জন্য ভিক্ষা চেয়ে এখন কংগ্রেসের গায়ে কাদা ছিটিয়ে সেই অনুগ্রহের প্রতিদান দিচ্ছেন তিনি।”

নেপোলিয়ন টেনে পাল্টা চাল মিলিন্দের!

পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলে দ্বিতীয় একটি টুইট করেন মিলিন্দ দেওরা। সেখানে নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে উদ্ধৃত করে তিনি লেখেন, “শত্রু যখন ভুল করছে, তখন তাকে কখনো থামাবেন না।” মিলিন্দ ইঙ্গিত দেন যে, তাঁর আগের টুইটটি আসলে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা (UBT)-কে উদ্দেশ্য করে ছিল। কংগ্রেস আগ বাড়িয়ে প্রতিক্রিয়া দেখানোয় তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন যে, এটি কংগ্রেসের জন্য একটি “আত্মঘাতী ও অনিচ্ছাকৃত স্বীকারোক্তি” হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এক নজরে বর্তমান পরিস্থিতি:

  • কংগ্রেসের অবস্থান: মিলিন্দকে ‘অকৃতজ্ঞ’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা।

  • মিলিন্দের অবস্থান: কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়াকে ‘ভুল স্বীকার’ হিসেবে দেখা।

  • রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য: শোকের অনুষ্ঠানে এই ধরণের রাজনৈতিক লড়াই মহারাষ্ট্রের রাজনীতির নিকৃষ্টতম স্তরকে উন্মোচিত করল।