“নোংরামির একটা সীমা আছে!” সোশ্যাল মিডিয়ায় অসভ্যতা নিয়ে রণংদেহী মেজাজে অপরাজিতা আঢ্য

ডিজিটাল পর্দার আড়ালে বসে অন্যকে কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করা কি এখন এক শ্রেণির মানুষের নেশায় পরিণত হয়েছে? সোশ্যাল মিডিয়ায় বাড়তে থাকা ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং ট্রোলিংয়ের বিরুদ্ধে এবার দপ করে জ্বলে উঠলেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য। এতদিন অনেক অপমান মুখ বুজে সহ্য করেছেন, শান্তি বজায় রাখতে কমেন্ট বক্সও বন্ধ রেখেছেন। কিন্তু সম্প্রতি পরিস্থিতির যে অবনতি হয়েছে, তাতে আর চুপ থাকা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তিনি। অপরাজিতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, যা চলছে তা স্রেফ ‘অসভ্যতা’ নয়, বরং এক গভীর মানসিক ব্যাধি।
অভিনেত্রীর ক্ষোভের মূলে রয়েছে সম্প্রতি অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকালপ্রয়াণ এবং তাঁর পরিবারকে নিয়ে করা কিছু কুরুচিকর মন্তব্য। অপরাজিতা প্রশ্ন তুলেছেন, একজন মানুষ শোকাতুর অবস্থায় কীভাবে এমন অমানবিক বিদ্রূপের শিকার হতে পারেন? তাঁর কথায়, “একজন স্বামীহারা নারী (প্রিয়াঙ্কা সরকার) কাজে ফিরলে কী করে কেউ নীতি পুলিশ সেজে প্রশ্ন তুলতে পারে? এগুলো মতামত নয়, এগুলো সরাসরি মানসিক হিংসা।” তিনি মনে করেন, কিছু মানুষ এতটাই সংবেদনশীলতা হারিয়ে ফেলেছেন যে তাঁরা অসুস্থতা বা মৃত্যু নিয়েও তামাশা করতে দ্বিধা বোধ করছেন না।
অপরাজিতা কেবল ক্ষোভ প্রকাশ করেই থেমে থাকেননি, তিনি সরাসরি গুগল (Google) এবং ইনস্টাগ্রাম (Instagram)-এর মতো সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর জোরালো আবেদন, যাতে এ ধরনের বিষাক্ত অ্যাকাউন্টগুলো দ্রুত নিষিদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যা খুশি বলে আর পার পাওয়া যাবে না। খুব শীঘ্রই তিনি সেই সমস্ত ট্রোলারদের নাম ও পরিচয় জনসমক্ষে আনবেন এবং প্রয়োজনে সাইবার ক্রাইম শাখার দ্বারস্থ হয়ে আইনি পদক্ষেপ নেবেন। সাইবার দুনিয়ায় সৌজন্যবোধ ফেরাতে অভিনেত্রীর এই কড়া অবস্থানকে কুর্নিশ জানিয়েছেন টলিপাড়ার সহকর্মী ও সাধারণ অনুরাগীরা।