ভোটের দিন দোরগোড়ায়! উত্তর কলকাতার ৪৮ শতাংশ বুথই ‘স্পর্শকাতর’, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় প্রস্তুত কমিশন

আগামী ২৯ এপ্রিল রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। এই নির্বাচন যাতে সম্পূর্ণ অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবের মেজাজে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে শহরের সার্বিক নিরাপত্তার ব্লু-প্রিন্ট তুলে ধরলেন কলকাতা উত্তরের জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO) স্মিতা পান্ডে, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর শীর্ষ আধিকারিক মনোজ কুমার। মূলত উত্তর কলকাতার সাতটি বিধানসভা এলাকা— জোড়াসাঁকো, চৌরঙ্গি, শ্যামপুকুর, এন্টালি, কাশীপুর-বেলগাছিয়া, বেলেঘাটা ও মানিকতলার ওপর বিশেষ নজর দিচ্ছে প্রশাসন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৫৮৩টি এবং বুথের সংখ্যা ১৮৩৫টি। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই বিপুল সংখ্যক বুথের মধ্যে প্রায় ৪৮ শতাংশই ‘স্পর্শকাতর’ তালিকার অন্তর্ভুক্ত। পরিসংখ্যান বলছে, ৮৩৭টি বুথ স্পর্শকাতর এবং ২৬৪টি বুথকে ‘অতি স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে শ্যামপুকুর কেন্দ্রে সর্বাধিক ৮০টি এবং চৌরঙ্গি কেন্দ্রে ৬০টি অতি স্পর্শকাতর বুথ রয়েছে। এই বিশেষ বুথগুলিতে ভোটারদের সুরক্ষা দিতে এবং রিগিং রুখতে মোতায়েন থাকবে বাড়তি কেন্দ্রীয় বাহিনী ও সিসিটিভি নজরদারি।

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (SIR) সংশোধনের পর দেখা যাচ্ছে, উত্তর কলকাতার এই সাতটি কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১০ লক্ষ ৭১ হাজার ৮১০ জন। এই বিশাল জনসংখ্যার ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে গোটা কলকাতায় মোট ৯৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। শুধুমাত্র কলকাতা উত্তরের জন্যই বরাদ্দ করা হয়েছে ৪০ কোম্পানি বাহিনী। পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ স্পষ্ট জানিয়েছেন, বুথের ভেতরে ও বাইরে কড়া নজরদারি থাকবে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে ‘কুইক রেসপন্স টিম’। সব মিলিয়ে, সাধারণ ভোটারদের নির্ভয়ে বুথমুখী হওয়ার জন্য সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন।