ভোটের মুখে তোলপাড়! শাসকদলের হয়ে কাজ করছেন ১০০০ পুলিশকর্মী? কমিশনের কড়া তলব

সামনেই নির্বাচন। রাজ্যের অলিতে-গলিতে এখন শুধুই ভোটের প্রচার, মিছিল আর স্লোগানের লড়াই। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা যাদের প্রধান দায়িত্ব, সেই পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধেই এবার উঠল মারাত্মক অভিযোগ। অভিযোগটি কোনো ছোটখাটো বিষয় নয়—কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের প্রায় ১,০০০ জন কর্মী ও অফিসারের বিরুদ্ধে সরাসরি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করার অভিযোগ জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনের দরবারে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, গত ৮ এপ্রিল ই-মেলের মাধ্যমে এক ব্যক্তি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ জানান। সেখানে দাবি করা হয়েছে, রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের ১,০০০-এর বেশি কর্মী ও আধিকারিক সক্রিয়ভাবে রাজ্যের শাসকদলের হয়ে বেআইনি কাজকর্মে লিপ্ত রয়েছেন। এমনকি, এই পুলিশকর্মীরা ইউনিফর্ম ছাড়াই সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে রাজনৈতিক নেতাদের হয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ। আরও মারাত্মক বিষয় হলো, নিজেদের অফিশিয়াল ডিউটি শিকেয় তুলে তারা অন্যান্য স্তরের সরকারি কর্মীদের ভয় দেখাচ্ছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করে রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নড়েচড়ে বসেছেন। অবিলম্বে এই বিষয়ে বিশদ তথ্য জানতে চেয়ে পুলিশি নোডাল অফিসারের কাছে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে রাজ্য পুলিশের নোডাল অফিসারকে এই সংক্রান্ত সম্পূর্ণ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। চিঠিতে রাজ্য পুলিশের ডিজিপি সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন।
সূত্রের খবর, অভিযোগকারী কেবল সংখ্যা নয়, বরং বেশ কিছু নির্দিষ্ট পুলিশকর্মীর নাম ও পদমর্যাদাও কমিশনের কাছে তুলে দিয়েছেন। ইতিপূর্বে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও পুলিশের একটি অংশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছিলেন। নির্বাচনের এই সন্ধিক্ষণে খোদ রক্ষকদের বিরুদ্ধেই এমন ভক্ষকের ভূমিকা পালনের অভিযোগে অস্বস্তিতে প্রশাসন। এখন দেখার, কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপের পর অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে কী আইনি বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।