ভোটের মুখে মাস্টারস্ট্রোক! বেকার ভাতা নিয়ে বড় আপডেট, ফর্ম ফিলাপ করলেও কেন টাকা পাচ্ছেন না অনেকে?

লোকসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে দাঁড়িয়ে রাজ্যবাসীকে ফের এক বিরাট উপহার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের মহিলাদের জন্য ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এর সাফল্যের পর এবার তাঁর বিশেষ নজর বাংলার বেকার যুবকদের দিকে। রাজ্যের বেকার যুবকদের আর্থিক সুরাহা দিতে মুখ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছেন ‘যুবসাথী’ প্রকল্প। কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, রূপশ্রী ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো জনপ্রিয় প্রকল্পের তালিকায় এবার নবতম সংযোজন এই যুবসাথী, যার মাধ্যমে রাজ্যের কয়েক লক্ষ যুবক সরাসরি উপকৃত হবেন।
কী এই যুবসাথী প্রকল্প?
এই প্রকল্পের অধীনে রাজ্যের বেকার যুবকদের প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। নবান্ন সূত্রে খবর, ২৪ থেকে ৪০ বছর বয়সী কর্মহীন যুবকরা এই ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবেন। মূলত তাঁদের দৈনন্দিন খরচ এবং কর্মসংস্থানের খোঁজে সহায়ক হিসেবেই এই টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
কেন টাকা ঢুকতে দেরি হচ্ছে?
প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর ইতিমঝ্যে টাকা বিতরণ শুরু হলেও অনেক আবেদনকারী এখনও অ্যাকাউন্টে টাকা পাননি। এই নিয়ে রাজ্যে যখন জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, যুবসাথী প্রকল্পের অধীনে টাকা বিতরণে কিছুটা দেরি হওয়ার প্রধান কারণ হলো যান্ত্রিক বিভ্রাট এবং একই আবেদনপত্র একাধিকবার জমা পড়া। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, “যাঁরা আবেদন করেছেন অথচ টাকা পাননি, তাঁদের ঘাবড়ানোর কিছু নেই। অনেকের আবেদনপত্র নকল বা ডুপ্লিকেট করা হয়েছে বলেই সমস্যা তৈরি হয়েছে। আমরা প্রতিটি আবেদন খুঁটিয়ে দেখছি এবং খুব দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা হবে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেছেন যে, অনলাইন এবং অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই প্রচুর আবেদন জমা পড়েছে। স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া শেষ হলেই যোগ্য আবেদনকারীরা তাঁদের প্রাপ্য টাকা পেয়ে যাবেন। বিজেপির অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার বা অন্যান্য জনমোহিনী প্রতিশ্রুতির মাঝেই মমতার এই ‘যুবসাথী’ প্রকল্প যে যুবসমাজের ভোটব্যাঙ্ক টানতে এক বড় হাতিয়ার, তা বলাই বাহুল্য। সরকারি এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে এখন জেলাজুড়ে আবেদনের হিড়িক পড়েছে।