সমুদ্রের গভীরে ‘বিষ’ ঢালছে চীন? ফিলিপাইনের হাতে মারাত্মক প্রমাণ, দক্ষিণ চীন সাগরে ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের মেঘ!

দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের আগ্রাসন এবার এক নতুন এবং বিপজ্জনক মোড় নিল। ফিলিপাইন সরকারের সাম্প্রতিক এক তদন্তে উঠে এসেছে শিহরণ জাগানো তথ্য। দাবি করা হয়েছে, বিতর্কিত জলসীমায় চীনা নৌযানগুলো থেকে মারাত্মক বিষাক্ত রাসায়নিক সায়ানাইড (Cyanide) উদ্ধার করা হয়েছে। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় এই বিষের অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

সায়ানাইড ষড়যন্ত্র: লক্ষ্য কী? ফিলিপাইনের কর্মকর্তাদের মতে, সেকেন্ড থমাস শোল (যাকে ফিলিপাইন ‘আয়ুঙ্গিন শোল’ বলে) এলাকায় চীনা নৌবাহিনী পরিকল্পিতভাবে সায়ানাইড ব্যবহার করছে। এর নেপথ্যে রয়েছে দুটি গভীর ষড়যন্ত্র:

  • খাদ্য উৎস ধ্বংস: ওই অঞ্চলে মোতায়েন ফিলিপিনো নৌবাহিনীর প্রধান খাদ্য উৎস হলো সমুদ্রের মাছ। সায়ানাইড দিয়ে মাছ মেরে ফেলে তাদের দুর্বল করার চেষ্টা করছে চীন।

  • প্রবাল প্রাচীর বিনাশ: সায়ানাইড সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র ও প্রবাল প্রাচীরের (Coral Reef) অপূরণীয় ক্ষতি করে। প্রবাল প্রাচীর দুর্বল হয়ে পড়লে সেখানে ফিলিপাইনের নোঙর করা পুরনো যুদ্ধজাহাজগুলোর অবস্থান বিপন্ন হবে, যা ওই অঞ্চলে ফিলিপাইনের দাবিকে দুর্বল করে দেবে।

রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ইতিহাস: চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে উত্তেজনা নতুন নয়। ২০২৪ সালের জুনে একটি সংঘর্ষে এক ফিলিপিনো নাবিকের আঙুল কাটা পড়েছিল। ফিলিপাইনের অভিযোগ, চীন বারবার তাদের রসদ সরবরাহে বাধা দিচ্ছে। যদিও বেইজিং এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, ফিলিপাইনই তাদের জলসীমায় অনুপ্রবেশ করছে।

আইনি লড়াই বনাম পেশিশক্তি: ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত দক্ষিণ চীন সাগরের ওপর চীনের একচ্ছত্র দাবিকে অকার্যকর ঘোষণা করলেও বেইজিং তা মানতে নারাজ। ব্রুনাই, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম এবং ফিলিপাইন—প্রত্যেকেই এই জলপথের ওপর নিজেদের অধিকার দাবি করে। বর্তমানে সায়ানাইড ব্যবহারের এই নতুন অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সহযোগিতার আবহে বিষের কাঁটা: মজার বিষয় হলো, সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে তেল ও গ্যাস নিয়ে সহযোগিতার আলোচনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সায়ানাইড উদ্ধারের এই ঘটনা সেই আস্থার পরিবেশে জল ঢেলে দিল। ফিলিপাইন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।