“আপনার ওপর আমার সন্দেহ আছে!”—বিচারপতির মুখের ওপর ১০টি কারণ দিলেন কেজরিওয়াল! দিল্লি হাইকোর্টে নজিরবিহীন সংঘাত!

আবগারি দুর্নীতি মামলায় আবারও নাটকীয় মোড়। সোমবার দিল্লি হাইকোর্টে শুনানি চলাকালীন খোদ বিচারপতির নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুললেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। বিচারপতি স্বর্ণ কান্ত শর্মার এজলাস থেকে মামলা সরানোর দাবি জানিয়ে ১০টি বিস্ফোরক কারণ পেশ করেন তিনি। আদালতের ঘরে দু-পক্ষের এই সওয়াল-জবাব ঘিরে এখন তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি।

“আমি আপনাকে সম্মান করি, কিন্তু…” শুনানির শুরুতেই কেজরিওয়াল বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনাকে ও বিচারবিভাগকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু এই মামলার বিচার নিয়ে আমার মনে গভীর সন্দেহ আছে।” এর জবাবে বিচারপতি শর্মাও বলেন, তিনিও কেজরিওয়ালকে সম্মান করেন। তবে এরপরই কেজরিওয়াল তাঁর সরে দাঁড়ানোর পক্ষে যে ১০টি যুক্তি দেখান, তা অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর।

কেজরিওয়ালের সেই ১০টি বিস্ফোরক অভিযোগ:

১. আরএসএস যোগের অভিযোগ: কেজরিওয়াল দাবি করেন, বিচারপতি শর্মা আরএসএস-এর ‘অল ইন্ডিয়া লয়ার্স কাউন্সিল’-এর অনুষ্ঠানে চারবার যোগ দিয়েছেন। আপ যেহেতু আরএসএস-এর ঘোর বিরোধী, তাই এখানে ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব নয় বলে তাঁর দাবি। ২. অমিত শাহর মন্তব্য: কেজরিওয়ালের দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগেই জানতেন হাইকোর্ট কী রায় দেবে। এই আগাম তথ্য কীভাবে ফাঁস হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। ৩. একতরফা রায়: কেজরিওয়ালের অভিযোগ, বিচারপতি শর্মা সিবিআই ও ইডির প্রতিটি যুক্তি অক্ষরে অক্ষরে মেনে নেন এবং তুষার মেহতা মৌখিকভাবে কিছু বললেও দ্রুত কড়া আদেশ জারি করেন। ৪. সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ: এর আগে এই আদালত যেসব মামলা খারিজ করেছিল বা বিরূপ মন্তব্য করেছিল, সুপ্রিম কোর্ট পরে সেই সব মন্তব্য খারিজ করে জামিন দিয়েছে। ৫. তড়িঘড়ি বিচার: অভিযুক্তের বক্তব্য না শুনেই দায়রা আদালতের আদেশ ভুল ঘোষণা করা এবং জবাব দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় না দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

সোশ্যাল মিডিয়ার প্রসঙ্গ: পুরানো প্রথা টেনে কেজরিওয়াল বলেন, যদি কোনো বিচারকের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের সঙ্গে বিরুদ্ধ পক্ষের যোগাযোগ থাকে, তবে নৈতিক কারণে তাঁর উচিত সেই মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া।

পরবর্তী পদক্ষেপ কী? কেজরিওয়ালের এই সরাসরি আক্রমণের পর আদালত এখন কী অবস্থান নেয়, সেটাই দেখার। আবগারি মামলায় খালাস দেওয়ার রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সিবিআই যে আবেদন করেছিল, সেই শুনানিতে বিচারপতির এই ‘সরে দাঁড়ানো’র আর্জি মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।