টাকার পাহাড় চাইছে ইরান! ইউরেনিয়াম চুক্তির মাঝপথেই বেঁকে বসল তেহরান, ভেস্তে গেল ইসলামাবাদের শান্তি আলোচনা!

মধ্যপ্রাচ্যে যখন যুদ্ধের মেঘ ঘনিয়ে আসছে, ঠিক তখনই বড় ধাক্কা খেল আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলা শান্তি আলোচনা। ইসলামাবাদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কয়েক ধাপ এগোনোর পর শেষ মুহূর্তে ইরানের আকাশচুম্বী আর্থিক দাবির মুখে ভেস্তে গেল সমস্ত পরিকল্পনা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ (Axios) হোয়াইট হাউসের সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এই অচলাবস্থার কারণে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনা শেষ করে দিতে বাধ্য হন।
বিশাল অঙ্কের অর্থ দাবি ইরানের: ২০১৫-১৬ সালের পরমাণু চুক্তি অনুযায়ী, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমানোর বদলে ইরানের পাওনা ছিল প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১২.৫ লক্ষ কোটি টাকা)। কিন্তু ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে সেই চুক্তি বাতিল করায় ইরান ওই টাকা পায়নি। এবার ইসলামাবাদে নতুন আলোচনার শুরুতে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে— আগে বকেয়া টাকা ছাড়তে হবে এবং জব্দ করা সম্পদের সুদ দিতে হবে, তারপরই হবে ইউরেনিয়াম নিয়ে কথা।
কেন এই অর্থের লড়াই? ইরান কেন আমেরিকার কাছে এত বিপুল টাকা চাইছে? তার কারণগুলো হলো:
-
জব্দ করা সম্পদ: বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদ আমেরিকার হাতে আটকে রয়েছে। ইরান শুধু সেই আসল টাকাই নয়, তার ওপর চড়া সুদও দাবি করছে।
-
কাতারের বকেয়া: বিভিন্ন দেশের কাছে থাকা ইরানি সম্পদ, যেমন কাতারে থাকা ৫ বিলিয়ন ডলার, তেহরান সরাসরি নিজের হাতে চাইছে।
জেডি ভ্যান্স বনাম আব্বাস আরাঘচি: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নিজেই আলোচনার ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, চুক্তিটি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু অর্থের প্রস্তাব পাড়তেই আমেরিকা নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে পিছু হটেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই মুহূর্তে অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে, তাই তারা চুক্তির আগেই নিজেদের কোষাগার পূর্ণ করতে চাইছে। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সন্ত্রাসবাদে ব্যবহার হতে পারে— এই আশঙ্কায় আমেরিকা আপাতত পিছু হটেছে।