“হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ!”-হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম, ভারতে কি এবার দামি হবে পেট্রোল-ডিজেল?

ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনার ইতি ঘটেছে মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে, আর এর মধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতিতে কম্পন শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই আকাশছোঁয়া হতে শুরু করেছে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম। আমেরিকার কড়া পদক্ষেপে ইরানের তেল রপ্তানি কার্যত বন্ধ হওয়ার পথে, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে।
ব্যারেল প্রতি ৮ ডলার বৃদ্ধি!
গত দু’দিনের পরিসংখ্যানে রীতিমতো দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ছে বিশেষজ্ঞদের কপালে। অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ব্যারেল প্রতি ৮ ডলারের বেশি বেড়ে গিয়েছে। বর্তমান বাজার দর এক নজরে:
-
WTI ক্রুড: ব্যারেল প্রতি ১০৪.৩৬ ডলার।
-
ব্রেন্ট ক্রুড: ব্যারেল প্রতি ১০১.৮৩ ডলার (শেষ দু’দিনে বেড়েছে ৬ ডলার)।
কেন এই অগ্নিমূল্য?
মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীতে কঠোর অবরোধের প্রস্তুতি নিয়েছে। বিশ্বের তেলের রাজনীতির মূল কেন্দ্র এই রুটটি বন্ধ হওয়া মানেই ইরানের তেল রপ্তানি থমকে যাওয়া। জোগান কমার আশঙ্কায় দাম ফের যুদ্ধকালীন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে।
ভারত কি সংকটে? সাধারণ মানুষের পকেটে কতটা টান পড়বে?
ভারতীয় গ্রাহকদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন— তবে কি এবার লিটার প্রতি দাম বাড়বে পেট্রোল-ডিজেলের? কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে যে, এখনই দাম বাড়ানো হচ্ছে না। কিন্তু পর্দার আড়ালে পরিস্থিতি ভিন্ন:
-
১১০ ডলারের সীমা: বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দাম যদি ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার ছুঁয়ে যায় এবং বেশ কয়েক সপ্তাহ সেই স্তরে স্থির থাকে, তবে সরকার দাম বাড়াতে বাধ্য হতে পারে।
-
বিকল্প পথ: দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার আমদানি শুল্ক বা ট্যাক্সে ছাড় দেওয়ার কথা ভাবতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার দীর্ঘ সময় চড়া থাকলে সাধারণ মানুষের পকেটে চাপ পড়া কেবল সময়ের অপেক্ষা।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা যত বাড়বে, ভারতের জ্বালানি বাজারের চ্যালেঞ্জ ততই কঠিন হবে। এখন দেখার, এই তেলের রাজনীতিতে ভারত তার সাধারণ মানুষের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত রাখতে পারে।