মোদী সরকারের ‘গোপন এজেন্ডা’ ফাঁস! জাতিশুমারি নিয়ে কেন বারবার ভোলবদল? তোপ জয়রাম রমেশের।

রবিবাসরীয় সকালে দিল্লির রাজনীতিতে ফের উত্তাপ বাড়ালেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ। সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানায় নিয়ে তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জাতিশুমারি বা ‘Caste Census’ প্রক্রিয়াকে হিমঘরে পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ সরকারের গত কয়েক বছরের পরস্পরবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তিনি।
সরকারের ‘পাল্টি’ খাওয়া নিয়ে প্রশ্ন
জয়রাম রমেশ বর্তমান সরকারের অতীত মন্তব্যের একটি তালিকা পেশ করে দেখিয়েছেন কীভাবে জাতিশুমারি নিয়ে অবস্থান বদলেছে কেন্দ্র। তাঁর দাবি অনুযায়ী:
-
জুলাই ২০২১: লোকসভায় সরকার জানিয়েছিল, তফশিলি জাতি (SC) ও উপজাতি (ST) বাদে অন্য কোনো জাতির গণনা করা হবে না।
-
সেপ্টেম্বর ২০২১: সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে কেন্দ্র এটিকে একটি ‘নীতিগত সিদ্ধান্ত’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
-
এপ্রিল ২০২৪: প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং জাতিশুমারির দাবিকে ‘আর্বান নকশাল মানসিকতা’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন।
-
এপ্রিল ২০২৫: এক বছরের মাথায় অবস্থান বদলে সরকার হঠাৎ ঘোষণা করে যে, আগামী লোকগণনার সঙ্গেই জাতিশুমারি হবে।
আরও পড়ুন: [নকল দাঁতের চেয়েও ৩০০ গুণ কার্যকর! অল্প খরচেই ফিরে পান আপনার হাসি।]
ডিজিটাল ইন্ডিয়ায় কেন এই ঢিলেমি?
কংগ্রেস নেতার প্রধান অভিযোগ সরকারের ‘গোপন এজেন্ডা’ ও দেরির কৌশল নিয়ে। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে রেজিস্টার জেনারেল জানিয়েছিলেন, ডিজিটাল পদ্ধতির কারণে ২০২৭ সালের মধ্যেই সমস্ত ফলাফল পাওয়া সম্ভব হবে। অথচ এখন সরকার কেন বলছে যে ফল প্রকাশে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে? জয়রাম রমেশ উদাহরণ দিয়ে বলেন, বিহার ও তেলঙ্গানার মতো রাজ্যগুলো যদি ৬ মাসের কম সময়ে এই জরিপ শেষ করতে পারে, তবে কেন্দ্র কেন গড়িমসি করছে?
আরও পড়ুন: [বিহারের রাজনীতিতে বড় মোড়! শিবরাজ চৌহানের এন্ট্রিতে কি ঠিক হবে বিজেপির পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী?]
সংশোধনীর আড়ালে কি সত্য লুকানোর চেষ্টা?
জয়রাম রমেশের অভিযোগ, ৩৩৪-এ অনুচ্ছেদে সংশোধনী এনে সরকার আসলে ২০২৩ সালের সর্বসম্মত প্রস্তাবগুলো থেকে পিছিয়ে আসতে চাইছে। তাঁর দাবি, “প্রধানমন্ত্রী দেশে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। সরকারের আসল উদ্দেশ্য হলো জাতিশুমারিকে কখনও বাস্তবায়িত হতে না দেওয়া এবং প্রযুক্তিগত কারণ দেখিয়ে বিষয়টিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলিয়ে রাখা।”
পরবর্তী লড়াইয়ের ইঙ্গিত
২০২৯ সালের মহিলা সংরক্ষণ বিল এবং ২০২৬-এর ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার মাঝে জাতিশুমারির এই ইস্যু এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। কংগ্রেসের এই আক্রমণের পর বিজেপি বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া আসে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।