তৃণমূল না কি মিম— আসল ‘দালাল’ কে? হুমায়ুনের দাবির পাল্টায় ‘তালমিছরি’র খোঁচা অরূপ চক্রবর্তীর!

বিতর্কিত ৫১ মিনিটের ভিডিও ঘিরে যখন উত্তাল বাংলা, ঠিক তখনই আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল AIMIM-এর সঙ্গে জোট ভাঙা নিয়ে সরাসরি তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘গড়াপেটা’র অভিযোগ তুললেন ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, তাঁকে কোণঠাসা করতে তৃণমূল ও মিমের মধ্যে কোটি কোটি টাকার গোপন লেনদেন হয়েছে।

হুমায়ুনের বিস্ফোরক অভিযোগ: হুমায়ুনের দাবি অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মিম-এর নেতাদের একটি বৈঠক হয়েছে। তাঁর অভিযোগের মূল পয়েন্টগুলো হলো:

  • ২০ কোটির ডিল: মিম নেতা ইমরান শোলাঙ্কি ও আসাদুলদের সঙ্গে তৃণমূলের ২০ কোটি টাকার চুক্তি হয়েছে।

  • ২ কোটি অ্যাডভান্স: ওয়েইসি যাতে হুমায়ুনের সঙ্গে জোট ভেঙে দেন, তার জন্য নাকি ইতিমধ্যেই ২ কোটি টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়েছে।

  • ভিডিও ষড়যন্ত্র: হুমায়ুনের দাবি, ৫১ মিনিটের ওই ভিডিওর মাত্র ১৯ মিনিট দেখিয়েছে তৃণমূল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কাউকে ‘সন্ন্যাসী’ সাজিয়ে পাঠিয়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন বলেও দাবি তাঁর।

তৃণমূলের পাল্টা খোঁচা: ‘আসল হুমায়ুন কে?’ হুমায়ুনের এই দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী তীব্র কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন:

  • “যে হুমায়ুন কবীর কখনও বিজেপি, কখনও কংগ্রেস করেছেন, তাঁর কোন কথা আমরা বিশ্বাস করব?”

  • “এ কি তালমিছরির বিজ্ঞাপন নাকি যে ছবি আর সই দেখে চিনতে হবে আসল হুমায়ুন কোনটা!”

  • অরূপের দাবি, হুমায়ুন কবীর আসলে সংখ্যালঘু সমাজের আবেগ এবং আত্মসম্মান বিক্রি করেছেন। তাঁর প্রতিটি কথা মিথ্যে।

ভিডিও বিতর্ক ও বর্তমান পরিস্থিতি: প্রথমে ভিডিওটিকে এআই (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বলে দাবি করলেও, এখন হুমায়ুন পুরো ভিডিও সামনে আনার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ষড়যন্ত্র করে ভিডিওর অংশবিশেষ প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাবরি মসজিদ ও বিজেপির সঙ্গে গোপন আঁতাত নিয়ে ভিডিওতে যা শোনা গেছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সংখ্যালঘু সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এডিটরস নোট: ভোটের মাত্র কয়েক দিন আগে এই ‘ভিডিও যুদ্ধ’ এবং কোটি টাকার ডিলের অভিযোগ মুর্শিদাবাদ তথা বাংলার রাজনীতিকে যে চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিল, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। শেষ পর্যন্ত ‘আসল হুমায়ুন’ কে, তা ব্যালট বক্সেই পরিষ্কার হবে।