পাকিস্তানিদেরও হার মানাচ্ছে বাংলাদেশ! হাসিনা-ইউনুস জমানা শেষেও কেন চড়চড় করে বাড়ছে দাম?

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে, জমানা বদলেছে। হাসিনা জমানার পর মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনকাল শেষ হয়ে এখন বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার। কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। উল্টে ঢাকার বাজারে এখন ‘আগুন’। দুবেলা পেট ভরে ভাত খাওয়া এখন বাংলাদেশের আম-জনতার কাছে এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ এখন পাকিস্তানকেও টেক্কা দিচ্ছে।
আমিষ বাজারে হাহাকার:
মাছ-ভাতে বাঙালির পাতে এখন মাছ ওঠা দায়। গত বছরের তুলনায় বাজারে মাছের সরবরাহ যেমন কমেছে, দাম বেড়েছে কয়েক গুণ।
সোনালি মুরগি: কেজি প্রতি ২৩০-২৬০ টাকা থেকে লাফিয়ে হয়েছে ৩৮০-৪২০ টাকা।
রুই মাছ: মাঝারি সাইজের রুই ৩৫০ টাকা হলেও বড় রুই বিকোচ্ছে ৪০০-৪৫০ টাকা কেজি দরে।
তেলাপিয়া, পাঙাশ বা চিংড়ি— সবকিছুরই দাম সাধারণের নাগালের বাইরে।
সবজির বাজারে ছ্যাঁকা:
মাছ-মাংস ছেড়ে সবজি খেয়ে দিন কাটাবেন, তারও উপায় নেই। ঢাকার বাজারে সবজির আকাল চরমে।
সবজির দরদাম: পটল ও ঢ্যাঁড়স ৬০-৮০ টাকা, সিম ও সজিনা ১০০ টাকা পর্যন্ত। ঝিঙে, করলা বা বরবটি বিকোচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়। সবথেকে বেশি দাম কাঁকরোলের, কেজি প্রতি ১২০-১৬০ টাকা!
স্বস্তি বলতে শুধু কাঁচালঙ্কা (৮০-১০০ টাকা) আর পেঁয়াজের (৩০-৩৫ টাকা) দামে।
উধাও ভোজ্য তেল:
সবচেয়ে বড় সংকট দেখা দিয়েছে ভোজ্য তেল নিয়ে। রাজধানী ঢাকার বাজারে ১ লিটার বা আধ লিটারের সোয়াবিন তেলের বোতল কার্যত উধাও। ৫ লিটারের কিছু বোতল মিললেও তা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০-৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ১৭৬ টাকার খোলা সোয়াবিন তেল বাজারে বিকোচ্ছে ২০০-২১০ টাকায়। পাম তেলের দামও আকাশছোঁয়া।
আয় নেই, শুধু ব্যয়:
হাসিনা আমলের পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও কর্মসংস্থান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাধারণ মানুষের আয় বাড়েনি, অথচ পাল্লা দিয়ে বেড়েছে খরচ। বাজারের এই অরাজকতায় ওপার বাংলার সাধারণ মানুষের এখন নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্রে এই খাদ্য সংকট কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই বড় চিন্তার বিষয়।