বর্ষা এলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন! কংসাবতী নদীর সেতু কি কেবলই ভোটের প্রতিশ্রুতি? উত্তপ্ত রাজনৈতিক ময়দান!

আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে চারদিকে, কিন্তু কংসাবতী নদীর পাড়ে দাঁড়ালে সময় যেন থমকে আছে কয়েক দশক আগে। মেদিনীপুর সদর ব্লকের কনকাবতী এবং কেশপুর ব্লকের আমদই গ্রামের সংযোগস্থলে কংসাবতী নদীর ওপর আজও একটি স্থায়ী সেতুর হাহাকার। আসন্ন নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে এখন এই সেতুর দাবিই হয়ে উঠেছে শাসক ও বিরোধী শিবিরের প্রধান প্রচারের অস্ত্র।
বাঁশের সাঁকো ও প্রাণের ঝুঁকি
সারা বছর আমদই-কনকাবতী ফেরিঘাটে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতের একমাত্র সম্বল হলো একটি নড়বড়ে বাঁশের অস্থায়ী সাঁকো। বর্ষাকালে যখন নদীর জলস্তর বাড়ে, তখন এই সাঁকোটিও তলিয়ে যায়। ফলে দুই পাড়ের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে মুমূর্ষু রোগী— সকলকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা অথবা কয়েক কিলোমিটার পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।
ভোটের বাজারে প্রতিশ্রুতির বন্যা
প্রতিবার নির্বাচনের আগে আমদই গ্রামের মানুষের কাছে রাজনৈতিক দলগুলো সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যায়। তবে নির্বাচন মিটে গেলে সেই ফাইল আর এগোয় না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
-
শাসক দলের দাবি: সেতুর সমীক্ষা হয়েছে, ডিপিআর তৈরির কাজ চলছে। বিরোধী পক্ষ কেবল রাজনীতি করছে।
-
বিরোধীদের তোপ: দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকেও কেন সেতু হলো না? মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে খেলা করছে শাসক দল।
গ্রামবাসীদের ক্ষোভ
“আমরা আর কতদিন বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবন হাতে নিয়ে চলব?”— প্রশ্ন তুলছেন আমদই গ্রামের সাধারণ মানুষ। তাঁদের সাফ কথা, এবার আর কেবল প্রতিশ্রুতিতে চিঁড়ে ভিজবে না। যে দল সেতুর কাজ শুরু করার বাস্তব গ্যারান্টি দেবে, ভোট নিয়ে তাঁদের দিকেই ঝুঁকে থাকতে পারে জনমত।
কংসাবতীর চরে এখন শুধুই সেতুর রাজনীতি। শেষ পর্যন্ত এই ‘সেতু’ কার তরণী পার করে, আর কার তরণী ডোবায়— সেটাই এখন দেখার।