ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা? সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর (SIR) মামলার নয়া মোড়, ফিরবে কি ভোটাধিকার?

বাংলার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘এসআইআর’ (SIR) বা ভোটার তালিকা থেকে গণহারে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে আইনি লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। লক্ষ লক্ষ ‘ডিলেটেড’ ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণে ফের সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হলো জনস্বার্থ মামলা। ট্রাইব্যুনালের ধীরগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এবার সরাসরি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শুনানি শেষ করার আর্জি জানানো হয়েছে সর্বোচ্চ আদালতে।

আবেদনে যে ৩টি বড় দাবি: রাজু ঘোষ নামে জনৈক ব্যক্তি বাংলার ১০৬ জন ভুক্তভোগীর পক্ষে এই মামলাটি লড়ছেন। তাঁর আবেদনে মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে:

  • ৪৮ ঘণ্টার ডেডলাইন: রিট পিটিশনের মতোই ট্রাইব্যুনালের আবেদনও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।

  • জেলা স্তরে ট্রাইব্যুনাল: প্রত্যেকটি জেলায় ট্রাইব্যুনাল গড়তে হবে যাতে সাধারণ মানুষকে কলকাতায় ছুটতে না হয়।

  • তৎক্ষণাৎ ভোটাধিকার: আবেদনের নিষ্পত্তি হওয়া মাত্রই পুরনো ভোটার তালিকা মিলিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ভোট দেওয়ার অনুমতি দিতে হবে।

আদালতে বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ: মামলাটি প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে উঠলে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ উঠে আসে।

  • স্থায়ী অধিকার: বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী জানান, নির্বাচনের একটি নির্দিষ্ট ‘কাট-অফ’ তারিখ থাকলেও নাগরিকের ভোটার তালিকায় নাম থাকার অধিকারটি একটি ‘বৃহত্তর সাংবিধানিক অধিকার’। এটি কোনো সাময়িক বিষয় নয়, বরং নাগরিকের মৌলিক অধিকার।

  • কমিশনের অবস্থান: কমিশনের আইনজীবী জানান, ৯ এপ্রিল ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ বা চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার পর আইনিভাবে কাউকে নতুন করে ঢোকানো কঠিন। তবে আদালত বিষয়টিকে মানবিক ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করছে।

১৩ এপ্রিলের দিকে তাকিয়ে বাংলা: প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, কাউকেই স্থায়ীভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে না। ভোটার তালিকা ফ্রিজ হওয়ার আইনি দিকটি আদালত আগামী ১৩ এপ্রিল গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে।

যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে কিন্তু বৈধ পাসপোর্ট বা নাগরিকত্বের প্রমাণ রয়েছে, তাঁরা কি শেষ মুহূর্তে গণতন্ত্রের উৎসবে যোগ দিতে পারবেন? আগামী সোমবারের শুনানির ওপরেই নির্ভর করছে লক্ষ লক্ষ বাঙালির ভবিষ্যৎ।