“বাঙালিই বাঙালির শত্রু—এটা বন্ধ হোক”, ইন্ডাস্ট্রি বাঁচাতে বিস্ফোরক দেব! কাজ ফিরছে নিষিদ্ধ শিল্পীদের?

টলিউডে দীর্ঘদিনের জগদ্দল পাথর ‘ব্যান’ বা নিষিদ্ধকরণ প্রথা কি অবশেষে বিলুপ্তির পথে? অভিনেতা রাহুল সিনহার মর্মান্তিক মৃত্যুর পর যখন পুরো ইন্ডাস্ট্রি উত্তাল, ঠিক তখনই টলিউডের ‘সুপারস্টার’ দেবের এক হুঙ্কারে বদলে গেল চিত্রনাট্য। ইন্ডাস্ট্রির জ্যেষ্ঠপুত্র প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে দেব যে ৭২ ঘণ্টার ডেডলাইন দিয়েছিলেন, তার অর্ধেক সময় পেরোনোর আগেই এল বড় সাফল্য। ডিরেক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া (DAEI) শেষ পর্যন্ত নতিস্বীকার করে নিষিদ্ধ শিল্পীদের কাজে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেব নিজেই এই সুখবর শেয়ার করে জানিয়েছেন, তাঁর উদ্বেগ প্রকাশের মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই ডিরেক্টরস গিল্ড কম্পিটিশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া-র কাছে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেবের কথায়, “আমি কাউকে ছোট বা বড় করতে আসিনি। কিন্তু বর্তমানে ইন্ডাস্ট্রির যা হাল, তাতে একে অপরকে ব্যান করে রাখা বোকামি। সিনেমা চলছে না, সিরিয়াল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, বাইরে থেকে কাজ আসা কমেছে। এই অবস্থায় আমরাই যদি নিজেদের বাধা দিই, তবে ইন্ডাস্ট্রি চলবে কী করে?”
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সাংবাদিক বৈঠকে দেব আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “রাহুলের মতো আজ যদি কোনও ব্রাত্য বা নিষিদ্ধ শিল্পী কর্মহীন হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতেন, তবে তার দায় কে নিত?” দেব স্পষ্ট জানান, তিনি কোনও বড় নেতা হতে চান না, শুধু চান কাজের সুস্থ পরিবেশ। ‘বাঙালিই বাঙালির শত্রু’—এই তকমা মুছে ফেলাই তাঁর লক্ষ্য। ফেডারেশন, আর্টিস্ট ফোরাম এবং ডিরেক্টরস গিল্ডের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে টেকনিশিয়ানদের রোজগার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। দেবের এই সাহসী পদক্ষেপে এখন টলিপাড়ায় আশার আলো দেখছেন কোণঠাসা হয়ে থাকা বহু পরিচালক ও শিল্পী।