যুদ্ধের আগুনের মাঝেই ভারতে এল ‘গ্রিন আশা’! মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে বড় স্বস্তি মোদী সরকারের

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-আমেরিকা দুই সপ্তাহের সংঘর্ষ বিরতিতে রাজি হলেও যুদ্ধের আঁচ এখনও নেভেনি। লেবাননে ইজরায়েলের নতুন করে হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কিন্তু এই চরম অনিশ্চয়তার আবহেও ভারতের জন্য এল স্বস্তির খবর। হরমুজ প্রণালীর সেই বিপজ্জনক জলপথ পেরিয়ে অবশেষে ভারতের মাটি স্পর্শ করল এলপিজি-বাহী বিশালাকার জাহাজ ‘গ্রিন আশা’।

বৃহস্পতিবার নভি মুম্বইয়ের জওহরলাল নেহরু বন্দরে (JNPT) জাহাজটি নোঙর করার পর স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। গত ৩০ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আল রামস বন্দর থেকে রওনা দিয়েছিল এই জাহাজটি। কিন্তু ইরান-ইজরায়েল সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার কারণে মাঝপথেই আটকে ছিল এটি। জানা গিয়েছে, এই জাহাজে ১৫,৪০০ টন এলপিজি বা রান্নার গ্যাস রয়েছে। যুদ্ধের কারণে যেখানে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছিল, সেখানে এই জাহাজের আগমন ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা নিল।

কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে (X) এই সাফল্যকে একটি ‘উল্লেখযোগ্য মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাহাজের সমস্ত কর্মী সুরক্ষিত রয়েছেন এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত জলপথ সফলভাবে অতিক্রম করা ভারতের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক জয়।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ভারতের ভাঁড়ারে বর্তমানে কত এলপিজি মজুত আছে? গত মার্চের শেষে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল, ভারতের কাছে অন্তত ৭৬ দিনের এলপিজি মজুত রয়েছে। এরপর গ্রিন আশা-সহ আরও কয়েকটি জাহাজ বন্দরে এসে পৌঁছনোয় সেই মজুত ভাণ্ডার আরও শক্তিশালী হলো। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান মজুত দিয়ে ভারত অনায়াসেই আগামী তিন মাস রান্নার গ্যাসের চাহিদা মেটাতে পারবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই রান্নার গ্যাসের বণ্টন বা ডিস্ট্রিবিউশন বাড়িয়ে দিয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে জ্বালানি পৌঁছতে কোনও সমস্যা না হয়।