এক ধাক্কায় ১৪৯ পুলিশ আধিকারিককে সরাল কমিশন! ভোটের মুখে নজিরবিহীন রদবদলে কাঁপছে প্রশাসন

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই রাজ্য প্রশাসনে একের পর এক রদবদল ঘটিয়ে চলেছে নির্বাচন কমিশন। তবে এবার এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল কমিশন। নির্বাচনের ঠিক মুখে এক ধাক্কায় ১৪৯ জন পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের বর্তমান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো। তালিকায় রয়েছেন ইন্সপেক্টর এবং সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার অফিসাররা। কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপের ফলে ভোটের ঠিক আগে রাজ্যের প্রশাসনিক অন্দরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, অপসারিত এই ১৪৯ জন আধিকারিক ভোটের কোনও প্রক্রিয়ার সঙ্গেই যুক্ত থাকতে পারবেন না। বৃহস্পতিবার জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই তালিকায় ৮১ জন ইন্সপেক্টর রয়েছেন, যাঁদের আজ বিকেল ৫টার মধ্যে নতুন পদে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই অফিসাররা ভোটের ডিউটিতে থাকবেন না—এই মর্মে তাঁদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকাও চেয়েছে কমিশন। পাশাপাশি, ৬৮ জন সাব-ইন্সপেক্টরকেও বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ ১৫০ জন অফিসারকে সরানো হয়েছিল, যার মধ্যে ৪৯ জন সাব-ইন্সপেক্টরকে জেলা বদলের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই গণ-বদলির ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চড়েছে রাজনীতির পারদ। এর আগে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি-র মতো শীর্ষ পদের আধিকারিকদের সরিয়ে দিয়েছিল কমিশন। সেই সময় থেকেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই রদবদল নিয়ে কমিশনকে কড়া চিঠিও দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত, যেখানে তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করেছেন। তৃণমূলের অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অফিসারদের সরিয়ে নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক কাঠামোকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।

রাজ্যে দুই দফায় ভোট—আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল। হাতে সময় অত্যন্ত কম। প্রচারের ময়দানে যখন সব দল ঝাঁপিয়ে পড়েছে, ঠিক তখনই কমিশনের এই সার্জিক্যাল স্ট্রাইক রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিচ্ছে। একদিকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে ডেরেক ও’ব্রায়েনদের সঙ্গে কমিশনের সংঘাত, অন্যদিকে এই ব্যাপক রদবদল—সব মিলিয়ে ভোটের আগে নির্বাচন কমিশন বনাম শাসক দল লড়াই এখন তুঙ্গে।