সড়কপথের যানজট মুক্তি? এবার ট্রেনের গতিতে পাহাড় সফর! দিল্লি-ঋষিকেশ কানেক্টিভিটি নিয়ে বড় খবর

দিল্লি থেকে উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ে যাওয়া এখন আরও সহজ ও দ্রুত হতে চলেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রাফিক জ্যামে আটকে থাকার দিন শেষ হতে পারে অচিরেই। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি সম্প্রতি দিল্লি সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে এক বিশেষ প্রস্তাব পেশ করেছেন— দিল্লি-মিরাট ‘নমো ভারত’ (RRTS) করিডোরকে ঋষিকেশ ও হরিদ্বার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা।
কী এই পরিকল্পনা? বর্তমানে দিল্লি-মিরাট রিজিওনাল র্যাপিড ট্রানজিট সিস্টেম (RRTS) বা ‘নমো ভারত’ ট্রেনের কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী ধামির প্রস্তাব হলো:
-
এই করিডোরকে মিরাট থেকে বাড়িয়ে হরিদ্বার হয়ে ঋষিকেশ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া।
-
এটি বাস্তবায়িত হলে দিল্লি থেকে ঋষিকেশ পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ২ থেকে ২.৫ ঘণ্টা। বর্তমানে সড়কপথে এই দূরত্ব পার করতে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লাগে।
কেন এই সম্প্রসারণ জরুরি? ১. পর্যটন ও তীর্থযাত্রা: কেদারনাথ, বদ্রীনাথের প্রবেশদ্বার হলো ঋষিকেশ। চারধাম যাত্রীদের জন্য এই ট্রেন পরিষেবা আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়াবে। ২. যানজট মুক্তি: দিল্লি-হরিদ্বার হাইওয়েতে পর্যটনের মরসুমে যে ভয়াবহ যানজট হয়, নমো ভারত চালু হলে তার চাপ অনেকটাই কমবে। ৩. অর্থনৈতিক উন্নয়ন: দ্রুত গতির যোগাযোগের ফলে উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি এলাকার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে জোয়ার আসবে।
মুখ্যমন্ত্রীর আর্জি ও কেন্দ্রের সবুজ সংকেত: প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বৈঠকে ধামি রাজ্যের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেন। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী এই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। এই রুটটি সম্প্রসারিত হলে এটি উত্তর ভারতের অন্যতম ব্যস্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে উঠবে।
পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দা— সবার নজর এখন কেন্দ্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। নমো ভারত এক্সপ্রেসের চাকা যদি সত্যিই পাহাড়ে গড়ায়, তবে উত্তরাখণ্ডের পর্যটন শিল্পে যে এক নতুন বিপ্লব আসবে, তা বলাই বাহুল্য।