“শেয়ারবাজারের মুড সুইং”-আজ আবার রেড জোনে মার্কেট, ডুবছে কোন কোন স্টক?

নিজস্ব প্রতিবেদন, মুম্বই: শেয়ার বাজারে যেন এক চরম অনিশ্চয়তার খেলা চলছে। বুধবারের বিশাল উত্থান দেখে লগ্নিকারীরা যখন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছিলেন, ঠিক তখনই বৃহস্পতিবার সকালে নেমে এল বজ্রাঘাত। ইরান যুদ্ধবিরতি নিয়ে যে খুশির হাওয়া দেখা গিয়েছিল, তা ২৪ ঘণ্টাও স্থায়ী হলো না। বৃহস্পতিবার বাজার খুলতেই হুড়মুড়িয়ে পড়ল সেনসেক্স ও নিফটি।
ধপাস করে নামল বাজার: এক নজরে আজকের পরিসংখ্যান
বুধবার সেনসেক্স লাফিয়েছিল প্রায় ৩০০০ পয়েন্ট। কিন্তু আজ খোলার সময়ই তা ২০০ পয়েন্ট পড়ে যায়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে রক্তক্ষরণ আরও তীব্র হয় এবং এক ধাক্কায় ৫৫০ পয়েন্ট পড়ে গিয়ে ৭৭,০০০-এর স্তরে নেমে আসে সেনসেক্স।
একই দশা ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ বা নিফটিরও। লেনদেন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই নিফটি ৯০ পয়েন্ট খুইয়ে ২৩,৮১৫ পয়েন্টে চলে আসে। এর ফলে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় লগ্নিকারীদের কয়েক লক্ষ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।
লাল বনাম সবুজ: কার পাল্লা ভারী?
আজকের বাজারে ১২৮৮টি শেয়ার ‘রেড জোনে’ বা পতনের মুখে রয়েছে। বিপরীতে ১২৫৫টি শেয়ার গ্রিন জোনে থাকলেও বাজারের পতন রুখতে তা যথেষ্ট ছিল না। ১৭৪টি শেয়ারের দামে কোনও হেরফের হয়নি।
কোন কোন স্টকে ধস?
আজকের পতনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বড় বড় নামগুলো।
-
বিগ জায়ান্ট: ইনফোসিস এবং আদানি পোর্টের মতো শেয়ার আজ ২ শতাংশের বেশি পড়েছে।
-
ব্যাঙ্কিং ও এভিয়েশন: আগের দিনের লাভ মুছে ফেলে রেড জোনে ঢুকেছে এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক (HDFC Bank) এবং ইন্ডিগো (Indigo)।
-
মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ: হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম, কোফোর্জ এবং ভারত ফোর্জের গ্রাফ নিচের দিকে। চোলা হোল্ডিংয়ের শেয়ার ৪ শতাংশ ও পিজিইএল প্রায় ২.৫০ শতাংশ খুইয়েছে।
কেন আচমকা এই পতন?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, নেপথ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের ফের ঘনীভূত হওয়া অশান্তি। ১. ইরানের পদক্ষেপ: আমেরিকা ও ইরানের দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ায় বিশ্ব বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ২. ইজরায়েলের হামলা: লেবাননে ইজরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ৩. এশীয় বাজারের প্রভাব: শুধু ভারত নয়, মধ্যপ্রাচ্যের এই আশঙ্কায় এশিয়ার একাধিক দেশের শেয়ার বাজার আজ লাল সঙ্কেত দেখাচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, দিনের শেষে বাজার কিছুটা রিকভার করতে পারে নাকি পতন আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়।