“মানুষ ভোট দিতে না পারলে ট্রাইব্যুনাল দিয়ে কী হবে?” বলাগড়ের জনসভা থেকে কেন্দ্রকে তোপ মমতার!

ভোটের মুখে ভোটার তালিকা এবং এসআইআর (SIR) ইস্যু নিয়ে রণংদেহি মেজাজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার হুগলির বলাগড়ের নির্বাচনী জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন তৃণমূল নেত্রী। প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া এবং ট্রাইব্যুনালের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুললেন তিনি।
ট্রাইব্যুনাল নিয়ে প্রশ্ন: ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নাগরিকদের আবেদনের জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ‘অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল’ তৈরি হয়েছে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, “মানুষ যদি ভোটই দিতে না পারে, তবে ট্রাইব্যুনাল দিয়ে কী হবে?” তাঁর অভিযোগ, তালিকা ‘ফ্রোজেন’ বা চূড়ান্ত করে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে ফের আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ: এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম না করে তাঁকে ‘আমোদী-প্রমোদী’ বলে কটাক্ষ করেন মমতা। তাঁর অন্যান্য বিস্ফোরক অভিযোগগুলো হলো:
-
খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ: মমতা দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় মানুষের মাছ-মাংস ও ডিম খাওয়া বন্ধ করে দেবে।
-
সাপের সঙ্গে তুলনা: বিজেপিকে ‘কেউটে’ ও ‘গোখরো’ সাপের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “সাপকে ঘরে ঢুকতে দেবেন না, এক ছোবলেই সব শেষ হয়ে যাবে।”
-
মহিলা বিরোধী: বিজেপিকে নারী-বিদ্বেষী দল হিসেবেও দাগিয়ে দেন তিনি।
উন্নয়ন ও প্রতিশ্রুতি: নিজের ১৫ বছরের শাসনের খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁর সরকারের ১০৫টি জনকল্যাণমুখী প্রকল্প রয়েছে। তিনি স্পষ্ট বলেন, “আমরা যা বলি, তা করে দেখাই।” লক্ষ্মীর ভান্ডার ও স্বাস্থ্যসাথীর সাফল্যের পাশাপাশি তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, ভোটের পরেই আবাসের টাকা এবং ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য’ পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।
লড়াই জারি রাখার বার্তা: মমতার দাবি, তাঁর লড়াইয়ের ফলেই ৩২ লক্ষ মানুষের নাম ফের তালিকায় তোলা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের অধিকার ফিরিয়ে দিতেও তিনি আমৃত্যু লড়াই করবেন বলে ঘোষণা করেন।