“আমার চুল টেনেছে, কর্মীদের মেরেছে!”-প্রচারে বেরিয়ে ‘হামলা’র মুখে আরজি করের নির্যাতিতার মা, কাঠগড়ায় তৃণমূল!

ভোটের ময়দানে পা রাখতেই চরম উত্তেজনার মুখে পড়লেন পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তথা আরজি করের নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ। বুধবার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিমোহন চ্যাটার্জি রোডে বাড়ি বাড়ি প্রচার চালানোর সময় তাঁকে ঘিরে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় একদল মহিলা। অভিযোগের আঙুল উঠেছে তৃণমূল আশ্রিত আশাকর্মী ও সমর্থকদের দিকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, নির্যাতিতার মা সশরীরে নিগৃহীত হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন।

কী ঘটেছিল বুধবার? এদিন সকাল থেকেই দলীয় কর্মীদের নিয়ে জনসংযোগে বেরিয়েছিলেন রত্না দেবনাথ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি গলিতে ঢুকতেই একদল মহিলা তাঁকে লক্ষ্য করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। প্রথম দফায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেলেও, দ্বিতীয়বার অন্য গলি দিয়ে ফেরার সময় উত্তেজনা চরমে ওঠে।

বিস্ফোরক অভিযোগ প্রার্থীর: সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রত্না দেবনাথ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন:

“তৃণমূলের কিছু দুষ্কৃতী ও আশাকর্মী একদম সামনে এসে জয় বাংলা স্লোগান দিচ্ছিল। তারা আমার গায়ে ফুল ছিটিয়ে দেয় এবং মারার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তিতে আমার চুলে টান লেগেছে, আর আমার কর্মীদের গায়েও হাত দেওয়া হয়েছে।”

পাল্টা যুক্তি তৃণমূলের: বিজেপি এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত চক্রান্ত’ বলে দাবি করলেও, অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে শাসকদল। পানিহাটির তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষের দাবি, প্রার্থীর ওপর কোনো হামলা হয়নি, বরং সাধারণ মহিলাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তাঁর বক্তব্য: “বেপাড়ার কিছু লোক এসে প্রচার করছিল যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হয়ে যাবে। এই শুনেই মহিলারা ক্ষুব্ধ হন। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে বিজেপি কর্মীরাই উল্টে মহিলাদের গায়ে হাত দিয়ে সরিয়ে দিচ্ছে।”

ভোটের উত্তাপে সরগরম পানিহাটি: আরজি কর কাণ্ডের ছায়া এবার সরাসরি ব্যালট বক্সে। একদিকে বিজেপির বাজি নির্যাতিতার মা, অন্যদিকে তৃণমূলের ঘরের ছেলে তীর্থঙ্কর। এই সংঘাতের আবহে আজকের এই ‘নিগ্রহ’র ঘটনা পানিহাটির রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলল।